অবশেষে এশিয়ার বিখ্যাত প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে। শনিবার রাত সাড়ে নয়টার পরে নদীতে ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় থাকা জেলেরা ডিমের দেখা পান। ডিম ছাড়ার খবর পেয়ে খলিফার ঘোনা, রামদাশহাট, মুন্সির হাট থেকে মদুনাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ডিম সংগ্রহ করা শুরু করেন সংগ্রহকারীরা। রাতে ডিম ছাড়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টায় তারা প্রায় ৮ হাজার কেজিরও বেশি ডিম সংগ্রহ করেন বলে নিভর্রযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে হালদা নদীতে শনিবার সকাল থেকে নমুনা ডিম দেখা গিয়েছিল। তখন মত্স্য অফিস সূত্র জানিয়েছিল, হালদায় জোয়ার বা পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলেই রুই, কাতলা, মৃগেল, কালা বাউশ মাছেরা ডিম ছাড়তে পারে। হাটহাজারী উপজেলার মাছোয়াঘোনাসহ বিভিন্ন এলাকার ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, এতদিন পুরোদমে ডিম না দেওয়ার কারণে হালদা নদীতে জাল ফেলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিম পাওয়া যায়নি। আজ (শনিবার) রাতে উপর্যুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় মা মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম ছেড়েছে।
ডিম সংগ্রহকারী সুজন জানান, তিনি তাঁর ২ নৌকায় মোট আট বালতিতে দশ কেজি করে মোট ৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অপর ডিম সংগ্রহকারী বদিউল আলম দুই নৌকায় চার বালতিতে মোট ৪০ কেজি, আশুতোষ দুই নৌকায় আট বালতিতে মোট ৮০ কেজি, সুকান্ত তিন নৌকায় আট বালতিতে মোট ৮০ কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন বলে জানান। ডিম সংগ্রহকারীরা সকলেই পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম পেয়েছেন এবং তারা সন্তুষ্ট বলে জানা গেছে।
উপজেলা মত্স্য অফিসার মো.আজহারুল ইসলাম মা মাছের ডিম ছাড়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছেড়েছে এবং রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে হালদার নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে ডিম সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ করছেন। প্রায় ৪শ’র বেশি ডিম সংগ্রহকারী হালদা নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে ডিম সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যেকে গড়ে ১৫-১৬ কেজি করে ডিম সংগ্রহ করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, মাছুয়া ঘোনা, শাহ মাদারি এবং মদুনাঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির কুয়া হালদার নদী থেকে সংগৃহীত ডিম সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন আরও কুয়া তৈরি করবে।
এদিকে হালদার রেণুর সঙ্গে স্থানীয় হ্যাচারির রেণু মিশিয়ে ভেজাল সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। হালদার রেণুতে ভেজালকারীদের তথ্য পেলে সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানানোর জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ইউএনও।