বান্দরবানে অপহূত আওয়ামী লীগ নেতা চথোয়াইমং মারমার হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে আওয়ামী লীগের ডাকে অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার ভোর থেকেই আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বান্দরবান সদরসহ সাতটি উপজেলায় রাজপথে অবস্থান নেয়। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি এবং সাইনবোর্ড ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে। হরতালের কারণে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ সবগুলো রুটে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সবধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। হরতাল চলাকালে শহর ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো যানবাহনও। হাট-বাজারে দোকানপাট বন্ধ ছিল। দুপুরে শহরের ট্রাফিক মোড়ে জনসংহতি সমিতির প্রধান সন্তু লারমার কুশপুত্তলিকা আগুনে পোড়ানো হয়। ১২টার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরের শহরে বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা। তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতি আওয়ামী লীগের ৬০ জনের নামের যে তালিকা তৈরি করেছে তার মধ্যে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক মংফু মারমা এবং পৌরশাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চথোয়াই মং মারমার নাম ছিল। ২০১৬ সালের জুন মাসে মংফু মারমাকে এবং গত ২২ মে চথোয়াই মং মারমাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। ক্যশৈহ্লা দাবি করেন, জনসংহতি সমিতির শীর্ষস্থানীয় নেতারাই তালিকাটি তৈরি করেছেন, তাদের নির্দেশনা পরামর্শে অপহরণ এবং হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না। হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আন্দোলন কর্মসূচি চলবে। সোমবার সাতটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকাল ৩টায় শোক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগ পৌর কমিটির সহ-সভাপতি চথোয়াইমং মারমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। তিনদিন পর রাজবিলা ইউনিয়নের জর্দান পাড়া জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথম থেকে জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে আসছে আওয়ামী লীগ।