গুলির পর চাপাতি দিয়ে কোপ :যুবলীগ নেতা বাপ্পী গ্রেফতার
ফেনী প্রতিনিধি, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৪, ২৩:০৭
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হককে পুড়িয়ে হত্যার আগে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ফেনী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক বাপ্পী চাপাতি দিয়ে অন্তত ৪/৫ বার কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপরই গাড়িতে ঘাতকরা আগুন ধরিয়ে দেয়। গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ দাগনভূঞার জায়লস্করে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে বাপ্পীকে গ্রেফতার করেছে। বাপ্পী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুলিবিদ্ধ একরামকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর কথা স্বীকার করেছেন।
ফেনী মডেল থানার এসআই মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, খুলনাগামী বাসে করে বেনাপোল হয়ে ভারতে পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বাপ্পী। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে একরাম হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামি বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী মিনারের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এছাড়া কাজিরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফকে ৫ দিনের এবং র্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃত সজীবকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীন এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এ পর্যন্ত পুলিশ এবং র্যাব একরাম হত্যা মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে। তার মধ্যে ২০ জনকে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। ১ জন রিমান্ডের অপেক্ষায় আছেন।
বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী মাহবুবা, মেঝো মেয়ে ডাক্তার নাদিয়া নাতাশা ও ছোট মেয়ে মার্জিয়া বিনতে মাহতাব সাংবাদিকদের জানান, তার অসুস্থ পিতা নির্দোষ এবং নিরপরাধ। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার। বিএনপি নেতা মিনার ফ্যালকন গ্রুপের স্বত্বাধিকারী, বিজিএমই এর পরিচালক ও ফেনী জেলা তাঁতী দলের সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ী ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামে।
এদিকে নিহত একরামের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ফিরোজ জানিয়েছেন, সেদিন ঘটনাস্থলের মাত্র ৩শ’ গজ দূরে দাঁড়ানো ছিল পুলিশের একটি গাড়ি। ওই সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের এক সদস্যের পা ধরে তার স্যারকে (একরাম) বাঁচানোর আকুতি করেন। কিন্তু পুলিশ একরাম চেয়ারম্যানের নাম জানার পরও নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে।