গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের অপার সম্ভাবনা কাজে আসছে না

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তর না করায় সরকার প্রতি বছর শত কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। গোবরাকুড়া-কড়ইতলী দুইটি স্থলবন্দর থেকে প্রতি বছর শত কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব আদায়ের পরেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। নানা সমস্যায় স্থলবন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ বন্দর না হওয়ায় দুটি স্টেশন থেকে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে সরকার। তবে বন্দর হলে এখানে রাজস্ব বেড়ে ৫০ কোটির ওপরে যাবে। স্থল বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এবং বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সেজন্য আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে গোবরাকুড়া আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আলী আজগর জানান, উক্ত স্থল বন্দরে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালুর পাশাপাশি অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে প্রায় দেড় হাজার আমদানি ও রপ্তানিকারক ভারত থেকে পছন্দ ও চাহিদামত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবে। একইসাথে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। অপরদিকে কড়ইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোর্টার এসোসিয়েশনের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম. সুরুজ মিয়া বলেন, স্থলবন্দরের বিভিন্ন উন্নয়নের অভাবে শুধু আমদানিকারকদেরই ক্ষতিসাধন হচ্ছে না; সেইসাথে সরকারও প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কড়ইতলী ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, বন্দরে অবকাঠামোর উন্নয়নের অভাবে ২ জন কর্মচারীসহ মোট ৪ জন কর্মকর্তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। গোবরাকুড়া ল্যান্ড কাস্টম স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা গাজী গোলাম মাহামুদ স্থলবন্দরকে অতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তর করার দাবি জানান।