সাবেক সেনাপ্রধান সিসিই মিসরের নতুন প্রেসিডেন্ট
প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৪, ২১:৪৮
মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান আব্দেল ফাত্তা আল সিসি। কিন্তু নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার কম হওয়ায় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিসির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে সিসি ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বর্ষীয়ান বামপন্থি নেতা হামদিন সাবাহি মাত্র তিন শতাংশ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া তিন দশমিক সাত শতাংশ ভোট বৈধ না হওয়ায় সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন মিসরের এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময়সীমা একদিন বাড়িয়েও ভোটারদের কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সিসি ছাড়াও আরেকজন প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও ভোট গণনায় সিসি এগিয়ে থাকবেন বলে আগেই আভাস দিয়েছিল গণমাধ্যমগুলো। কিন্তু সোম-মঙ্গলবার নির্ধারিত ভোটের দিন ‘প্রয়োজনীয় সংখ্যক’ ভোট না আসায় তা একদিন বাড়ানো হয়েছিল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারও কায়রোর নির্বাচন কেন্দ্রে সামান্য সংখ্যক ভোটার হাজির হয়েছিলেন। একই পরিস্থিতি ছিল মিসরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেকজান্দ্রিয়ায়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেয়া ভাষণে সিসি চার কোটি বা ৮০ শতাংশ ভোট পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ভোটপ্রদানের হার ধারণার চেয়েও অনেক কম। তাই এই নির্বাচন সিসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইনী বৈধতা দিলেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সাবেক সেনাশাসক হোসনি মুবারকের ৩০ বছরের সেনাশাসন শেষ হওয়ার পর গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিল মিসরীয়রা। কিন্তু মাত্র এক বছরে মধ্যেই দেশটিতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। এই সুযোগে সামরিক বাহিনী আবারও ক্ষমতায় ফেরার পথ করে নেয়। নির্বাচনে সিসির এই বিজয়ে সেই কাজটিই সম্পন্ন হলো ।