নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিবেশীর রাজনীতি
প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৪, ২১:৫৩
বড় রাষ্ট্র হিসাবে ভারত তার প্রতিবেশি রাষ্ট্রসমূহের প্রতি বরাবরই আধিপত্যবাদী ভূমিকা রেখেছে। ফলে সহজেই প্রতিবেশি দেশসমূহে ভারত বিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে। তবে ভারতে নতুন প্রধানমন্ত্রী মোদীর মেধা এবং প্রজ্ঞার প্রয়োগ ও নেতৃত্বের ধরন দেখে প্রবল ভারত বিরোধিরাও স্থিতিশীলতা ও শান্তির স্বপ্ন দেখছে।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
সেনবাগ, নোয়াখালী
মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যক্তি স্বার্থে এক সময়ের বন্ধুও যেমন চরম শত্রু হয়ে যায় তেমনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক স্বার্থে এবং নিজ দেশের জনস্বার্থে প্রতিবেশি দেশের বিরোধিতা করা ত্যাগ করে সুপ্রতিবেশিসুলভ আচরণের পথ বেছে নেয়। ভারতের ক্ষমতাহীন কংগ্রেসের রীতিনীতি, আচার-আচরণ হয়তো প্রতিবেশি অন্য কোনো দেশের রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর কংগ্রেসের একগুয়েমী নীতির কারণে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাই হয়তো ভারত বিরোধী মনোভাব পোষণ করতো। এখন সাধারণ ভারতবাসীও কংগ্রেসের দেশ পরিচালনার ব্যর্থতা, দুর্নীতির কারণে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট প্রদানের মাধ্যমে মোদীর দলকে একদিকে যেমন ক্ষমতায় বসিয়েছে। অন্যদিকে ভারতের প্রতিবেশি দেশগুলো যারা তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ভারত বিরোধী মনোভাব পোষণ করতো তারাও এখন মোদীর আচার-আচরণ বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে নতুন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সুআচরণ ও শান্তির সহিত সহাবস্থানের মনোভাব আঁচ করতে পেরে ভারত প্রীতির আলামত দেখাচ্ছে। এটি নিন্দনীয় ও গর্হিত কোনো কাজ নয়। কোনো দেশ প্রতিবেশির কাছ থেকে শুধু নিবে কিন্তু কিছু দিবে না এটাতো কোনো নীতি হতে পারে না। আশা করি, নতুন প্রধানমন্ত্রী মোদী এধরনের নীতিতে থাকবে না।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
প্রবাদ বাক্যে আছে, ‘যেদিকে চাঁদ সেদিকে সালাম’। কিংবা হতে পারে ‘শক্তের ভক্ত নরমের জম’। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমেই যে চমকটি দেখালেন তা হলো সার্কভুক্ত প্রতিবেশি দেশের সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজের শপথ অনুষ্ঠানে একত্রিত করে নিজের ইমেজকে বাড়িয়ে তোলা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতকে বন্ধু হিসাবে জানুক ও ভাবুক। মোদীর দল বিজেপি’র রাজনীতিতে যাই বলুক, যাই করুক কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদীর এই চমককে স্বয়ং ভারতবাসী বিস্মিত হয়েছে। সুতরাং ভারত বিরোধী দেশের রাজনীতির মধ্যে এখন ভারত প্রীতির আলামত বাড়বে। প্রবাদ বাক্যের মতোই অর্থাত্ আলামতের সৃষ্টি হয়েছে। তা অনুধাবন করা এবং মেনে নেয়া। এটাই বুঝি প্রাকৃতিক নিয়মের লেখা। এক সময়ের ভারত বিরোধীরা এখন ভারত প্রীতির স্লোগান দেবে এটাই স্বাভাবিক।
শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
ভারতের নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় যাওয়ায় আমাদের তেমন কোনো লাভ হবে না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুশি এজন্য যে, ভারতের কংগ্রেস সরকার পরাজিত হয়েছে। মোদী জয় লাভ করায় প্রতিবেশি দেশগুলোর খুব উপকার হবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। ভারত কখনো কারো বন্ধু ছিল না, হবেও না, হতেও পারে না। তাই সরকারসহ সবার মনে রাখা দরকার, যত তোষামোদই করা হোক না কেন তারা কখনো আমাদের কিছু দেবে না।
শাহ আলম খান
স্বরল বাঁশখালি, চট্টগ্রাম
এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের বন্ধুত্ব থাকাটাই হচ্ছে পররাষ্ট্র নীতির মূল লক্ষ্য। কিন্তু তাই বলে ন্যায়-অন্যায় জনগণের জন্য যা কল্যাণকর নয়, এই ধরনের সিদ্ধান্তকে উত্সাহ দেয়া বন্ধুর পরিবর্তে সেই দেশের জনগণের প্রতি অবিচারের ইঙ্গিত বহন করে। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক এরূপই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সদ্য ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক অনেক সমস্যা বিদ্যমান। সমস্যাগুলো সমাধান হলে বাংলাদেশের চিত্র এবং জনগণের অনেক আকাঙ্ক্ষিত আশা পূরণ হবে। প্রত্যেকটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবস্থান তৈরি হয়। ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছে এতে অনেকেই ভারত প্রীতির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান হবে যা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুখের বার্তা। বাংলাদেশের জনগণ নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে এই প্রত্যাশাই করে।
মনজু খন্দকার
চুয়াডাঙ্গা
বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। সে দেশের নবগঠিত সরকার প্রধান নরেন্দ্র মোদীর উচিত হবে ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও ইন্দো-বাংলার সম্পর্ক শুধু নরেন্দ্র মোদীর রাখলে হবে না; ভারতের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকার প্রধানদেরও উচিত হবে বিজেপিকে সহযোগিতা করে এশিয়া মহাদেশে যাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থা অটুট থাকে। সে ব্যবস্থাই সবাইকে নিতে হবে।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন কোন বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হবে কি না সেটা ভাবতে হচ্ছে। তবে সময়ই একদিন বলে দেবে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় যারা ভারত বিরোধী ছিল তারা আজ ভারত প্রীতির দিকে ঝুঁকছে।
আশরাফ
কাওরান বাজার, ঢাকা
বিজেপির বিজয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সত্যি অবাক বিস্ময় বিষয়টি। তবে নুতন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক যেন আরো সুদৃঢ় হয়।
মো. আবুল হোসেন
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিস্ময়কর সাফল্যের মধ্য দিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশাকরি, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বিজেপি পদক্ষেপ নেবে।
রিফাত
ঝিনাইদহ
নরেন্দ্র মোদী প্রমাণ করলেন রাজনীতিবিদদের কথায় ও কাজে মিল থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনের আগে বলেছেন কম প্রশাসক ও বেশি প্রশাসন গড়ে তুলবেন। জয় লাভের পর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সভায় ৭০ জনের মধ্য ৪৫ জন নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। শপথ গ্রহণের দিন সার্কভুক্ত সকল রাষ্ট্র প্রধানদের নিমন্ত্রণ জানিয়ে বিশ্ববাসীকে বুঝিয়েছেন বহির্বিশ্বের বন্ধুদের চেয়ে কাছের প্রতিবেশী বন্ধুদের মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। এ শিক্ষণীয় বিষয়গুলো প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতায় যারা ছিলেন; তারাও আজ ভারত প্রীতিতে এগিয়ে এসেছেন। এভাবে প্রতিবেশী রাজনৈতিক বন্ধুত্ব গড়বে ও টিকে থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। কথায় আছে বোকা বন্ধুর চেয়ে বুদ্ধিমান শত্রুও ভালো।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা
সেন্ট মার্টিন কিন্ডার গার্টেন
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা-১১০০
ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তের বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাজনীতির সাথে সক্রিয় তিনি দীর্ঘদিন। মোদীর বালিষ্ঠ প্রচেষ্টায় এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন হাতে হাত ধরে চলবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক নিবিড় হবে বলে আশাকরি।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
স্টুডিও ফুজিয়া, মিরপুর-১, ঢাকা
ভারতের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। ভারতের জনগণ নরেন্দ্র মোদীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসিয়েছে। অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে হিন্দু মৌলবাদের জয়যুক্ত হয়েছে। জনতার আবেগ নরেন্দ্র মোদীকে এ বিজয়ে বিপুল সাহায্য করেছে। ব্যক্তি হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর অনেক গুণ এবং ধীশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিত্বের পরিচয় ভারতবাসী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয় একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদী কতটা সফল হোন। প্রথমেই আসা যাক নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে। সেখানে চার হাজারের অধিক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে সার্কভুক্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট এবং স্পিকার এদের উপস্থিতি অবশ্যই দেখার মতো। আমরা সাধারণ জনগণ হিসেবে মনে করি নরেন্দ্র মোদী এ শপথ অনুষ্ঠানটিও একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি চেয়েছেন চিরশত্রু পাকিস্তানের মনোভাব নমনীয় করার জন্য যা কিছু করার দরকার সেটি করা। সেইসাথে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শ্রীলংকার সাথেও সম্পর্ক গভীরতর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এবং জয়ললিতাকে বশে আনতে তিনি পারেননি। অপরদিকে কেজরিওয়ালের বন্দী দশা দীর্ঘায়িত হয়েছে। তাই বলা যায়, অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে ছোট করে দেখে আন্তর্জাতিক এবং পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে সম্পর্ক ভালো করার মনোনিবেশ করেছেন। এটি হিতেবিপরীত হতে পারে। ভারতের জনগণের প্রত্যাশা বেকারত্ব মোচন করে অর্থনৈতিক দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখা। পাশাপাশি মার্কিন এবং চীনের সাথে কিভাবে মোদী তার পররাষ্ট্র নীতিকে বিকশিত করেন এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট কথা বলায় মোদীর জুড়ি নেই। তাই হয়তো যারা এখন মোদীকে বুঝে কিংবা না বুঝে তোয়াজ-তোশামত এবং প্রশংসা করে থাকেন সেটি ভালো কি মন্দ তা শুধু সময়ের কাছে ছেড়ে দেয়া যায়। আমরা ছোট দেশের নাগরিক হিসেবে দাবি করবো—সীমান্ত হত্যা বন্ধ হোক, সেইসাথে ভারতের মতো বাংলাদেশও যেন বাণিজ্যের সার্বিক সহযোগিতা ভারতের কাছে পায়।
ওয়াহিদ মুরাদ,
নেছারাবাদ, পিরোজপুর
ভারত একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ এবং ভারত ক্রমশই একটি আঞ্চলিক পরাশক্তি হয়ে ওঠছে। অবস্থানগত ও স্বভাবসুলভ কারণে ভারত নিকট প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ মেটাতে চায় না বরং খবরদারি করাই ভারতের স্বভাব। তাই নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতা গ্রহণে বিশেষ উল্লোসিত বা হতাশ হবার কিছু নেই। কারণ ভারতপ্রীতি বা বিদ্বেষ কোনো নীতিই নরেন্দ্র মোদীকে প্রভাবিত করবে না বরং প্রতিবেশীর রাজনীতিকে তিনি প্রভাবিত করার চেষ্টায় থাকবেন তার কর্তৃত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তি দেখানোর জন্যই। আর ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম দিক হলো অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শত্রু বন্ধু হয়, বন্ধু শত্রু হয় কিন্তু বদল হয় না তাদের জাতীয়-আন্তর্জাতিক নীতি-আদর্শ। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের চিন্তা সবচেয়ে বেশি থাকে পাকিস্তানকে নিয়ে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা থাকে চীনের সঙ্গে। কারণ ভারতের একালের কূটনীতি আবর্তিত হয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে অনেকটাই আমেরিকার কর্তৃত্ববাদী, শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ ও শক্তি দেখানোর মনস্তাত্ত্বিক আদর্শ অনুসরণ করে। তাই নরেন্দ্র মোদীর চিন্তায় সহসাই বাংলাদেশ খুব বেশি গুরুত্ব পাবে বলে মনে হয় না। তবে তিস্তার পানি, ছিটমহল বা অন্যান্য বিষয়ে তিনিও তার পূর্বসূরীদের পথেই এগুবেন বলে মনে হয়। যদিও কৌশল পাল্টে বাংলাদেশের জনগণের কাছে নিজের ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রেও তিনি ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারা’ ও ‘ধীরে চল’ নীতি অনুসরণ করবেন। কারণ ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, শ্রেণীবৈষম্য সব কিছুকে পিছে ঠেলে সমরশক্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ভারতের মূলশক্তি হলো তাদের সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় নরেন্দ্র মোদী ক্রমশই রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের ন্যায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠবেন এবং তার সাহসী ভূমিকার ছোঁয়া প্রতিবেশী দেশে লাগলেও লাগতে পারে।
অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ,
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর-১৭৩০
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধে ভারত আমাদের সহায়তা করে ও বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। কিছু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি পাকিস্তানের সহায়তা করে, তবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাধারণ ক্ষমার কারণে তারা ক্ষমা পেয়ে বাংলাদেশেই থাকে ও বিভিন্ন দলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয় ও ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় থেকে তারা ভারত বিরোধী বহু অপকর্মে জড়িয়ে পরে। ভারত তাতে নাখোশ হয় ও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। স্বাধীনতা বিরোধী সেই অপশক্তি আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতের নতুন মোদী সরকারের সাথে মধুর সম্পর্ক সৃষ্টির চেষ্টায় জড়িত।
নজরুল ইসলাম খান,
খান ভিলা, ৫৪ নং নতুন জুরাইন, ঢাকা
ভারত বাংলাদেশসহ সকল প্রতিবেশী দেশের জন্য আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। ভারতের সাথে বেশ কয়েকটি পার্শ্ববর্তী দেশের বিশেষ করে বাংলাদেশের তিন দিকই ভারতের সীমানা দ্বারা পরিবেষ্টিত। তাছাড়া বাংলাদেশের ৫৪টি নদীর প্রায় প্রত্যেকটিরই উত্স স্থল ভারত। এদিকে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বতোভাবে ভারতের বিভিন্নমুখী সহায়তা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। কিন্তু ’৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতাকে হাতিয়ার করে একশ্রেণীর রাজনীতিবিদ ও তাদের দোসররা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে উঠে-পড়ে লাগে। যদিও আমাদের দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি প্রায়শ ভারত বিরোধিতায় মগ্ন থাকে তবে অধিকাংশ বাঙালি এর ঘোর বিরোধী। তাছাড়া আমাদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রেখে সকল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। যদিও ভারতে বর্তমান ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদী কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে স্বীকৃত তবুও আশার আলো হলো ইতিপূর্বে এই বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের সাথে গঙ্গা চুক্তিসহ অন্যান্য চুক্তি হয়েছিল। কাজেই আমরা আশাবাদী সেই ধারাবাহিকতা বর্তমান নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার বজায় রাখবে।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি,
৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩
এটা ঠিক নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় কিছু রাজনৈতিক দল যারা কট্টর ভারত বিরোধী ছিল, তাদের মধ্যে কিছুটা ভারত প্রীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি এই ব্যাপারে এত খুশি হওয়ার বা এত উত্সাহের কিছু নেই। ভারত হল এমন একটা রাষ্ট্র যারা তাদের সুস্থিত পররাষ্ট্র নীতির বাইরে কোন কাজ করে না। নিজেদের দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কখনোই তারা প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক করবে না। নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনের আগে যাই-ই বলুন, নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রতিবেশী দেশের ব্যাপারে কংগ্রেসের পথেই হাঁটবেন বলে মনে করি। বাকিটা সময়ই বলে দিবে।
শামীম মোহাম্মাদ মাসুদ
সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের গণতান্ত্রিক দেশ। নিজ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একতা রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশের কিছু দলের ভারত বিরোধিতার প্রশমনে ভারতের সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভারতের নির্লজ্জ সমর্থন তাদের সেই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টারই একটা অংশ বলে আমি মনে করি। এর মাধ্যমে সময়ের পরিক্রমায় পার্শ্ববর্তী দেশে ভারত বিরোধিতা কিছুটা হলেও হ্রাস পেয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ভারত বিরোধী দলগুলোকে বিজেপি মুলা ঝুলিয়ে আরো কিছু সময় ক্ষেপণ করবে বলেই মনে হয়।
আমির উদ্দিন
ঢাকা কলেজ, ঢাকা
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় প্রতিবেশী কোন কোন দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশে বিএনপির প্রতি ভারতপ্রীতির যে ইঙ্গিত করা হয় তা যথাযথ নয় বলে মনে করি। তবে ভারতপ্রীতি বলতে যদি ভারতবাসী অথবা ভারতীয় জনগণের প্রতি প্রীতি বুঝায় তবে তো দোষের কিছু নয়। কারণ রাষ্ট্রের প্রতি রাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের স্থলে প্রীতির মনোভাব থাকাটাইতো স্বাভাবিক ও অধিকতর মঙ্গল। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের স্বাভাবিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়া এবং পরস্পরকে আস্থায় এনে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিবেশীদের প্রতি যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন তা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক।
একেএম শাহজাহান
সভাপতি, বিজ্ঞান সমিতি
নরসিংদী
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচিত হওয়ায় আমরা আশা করবো এতদাঞ্চলে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে নতুন সরকার।
নাসরিন সুলতানা মোলী
স্যানিসাইড, নিউইয়র্ক
দীর্ঘ ১০ বছর পর ভারতের মনমোহন সিংহের অবসানের পর শুরু হয়েছে মোদীর যুগ। গত সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। ভারতের জনতা পার্টির নেতা এই নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতির ভবনের সামনে প্রশস্ত চত্বরে ৪ হাজারেরও বেশি অতিথির আসনের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আনুষ্ঠানিক শপথ নেন নরেন্দ্র মোদী। নতুন প্রধানমন্ত্রীর এখন প্রধান কাজ হবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক ও আন্তরিকতার সাথে প্রীতি বন্ধন রেখে চলা।
বজলুল করিম
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)
ধানমন্ডি, ঢাকা
ভারতের প্রতিবেশী কোন কোন দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যারা ভারত বিরোধিতার নীতিতে অভ্যস্ত ছিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচিত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলো এখন সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে-এটা স্বাভাবিক বলেই মনে করি।
মো. শহীদুল ইসলাম
নিশিন্দারা
মধ্যপাড়া, বগুড়া
বিজেপি সরকারের শাসনামলে ভারতের শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আমাদের বিশ্বাস। অন্যদিকে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে এই নবনির্বাচিত সরকারের সাথে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠবে এটাই আজকের দিনে প্রত্যাশা।
মো. মোজাহারুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
হডাফ, সাভার
ভারত একটি বৃহত্ রাষ্ট্র। তারা সবসময়ই ভালো কিছু করে। তাই নবগঠিত বিজেপি নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানাই। তার মেধা দিয়ে তিনি ভারতবাসীর জনগণ ও বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির বার্তা বয়ে নিয়ে আসবেন।
মো. হানিফ মিয়া
মনেশ্বর রোড, ১ম লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা
ভারতের বিদায়ী কংগ্রেস শাসনামলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত সমস্যাসহ দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত অনেক সমস্যার সমাধান হয়নি। বন্ধ হয়নি সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও বাংলাদেশি হত্যার জঘন্যতম প্রবণতা। তবে এবার ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশ হিসাবে এ বিষয়গুলো যত্ন সহকারে দেখবেন এবং নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলে উক্ত সমস্যাগুলো সমাধান হবে বলে আমরা মনে করি।
জাহাঙ্গীর খান বাবু
সিরাজদীখান, মুন্সীগঞ্জ
ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শাসনামলে একটি নতুনভাবে সে দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করি এবং পাশাপাশি ভারতের নতুন মন্ত্রিসভার সুষমা স্বরাজ ও উমা ভারতীর মতো নেতার স্থান পাওয়াকে আমরা ইতিবাচক মনে করি।
হোসনে আরা করিম নীলা
এনায়েতগঞ্জ লেন, পিলখানা, ঢাকা
ভারতীয় জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে বেছে নিয়েছে। এ বিজয় নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক এই দেশটির। এ বিজয়ের সাথে প্রতিবেশী কোন কোন দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যারা বিরোধিতার নীতিতে অভ্যস্ত ছিলেন নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে আজ ভারতপ্রীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মো. মনির হোসেন
মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র
মিরপুর, ঢাকা
বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীর নিরঙ্কুশ বিজয় সারা বিশ্বকে সত্যি তাক লাগিয়ে দিয়েছে। মোদীর মাধ্যমে ভারতে যে নতুন সরকার তথা নতুন যুগের সূচনা হলো তা যেন ভারতের একশ বিশ কোটি জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি ডেকে আনে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মাঝে যেন বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে-এই প্রত্যাশা আমাদের।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
মোদী প্রধানমন্ত্রীর পদে বিজেপি মনোনয়ন পাওয়ার পর অনেকেই আশংকা করেছিলেন ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের মধ্যেও আজ ভারতপ্রীতির আলামত দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি ভালো বলে মনে করি।
মো. খায়রুল বাশার
কুতুবখালী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার নৈতিকতার বিষয়টি বেশ প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি মন্ত্রিসভা স্বল্প পরিসরে গঠন ও সার্কভুক্ত রাষ্ট্র প্রধানদের তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি সত্যি সত্যি প্রতিবেশী দেশগুলোকে বন্ধুত্বের প্রমাণ শুরুতেই দিয়েছেন। এতে করে অনেক প্রতিবেশী দেশ ভারতপ্রীতির দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এতে সবার মধ্যে আশার সঞ্চার ঘটেছে।
মো. রমিজউদ্দিন
প্রশিকা, প্রধান কার্যালয়
মিরপুর-২, ঢাকা
ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানাই অভিনন্দন। সে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনেকেই ভারত বিরোধিতায় অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু আজ সেখানে দেখা যাচ্ছে নতুনের সম্ভার নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। সে সাথে ভারত বিরোধী তাদের মধ্যে আজ ভারত প্রীতির দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করি বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ী হোক।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
প্রতিযোগিতার মতো বিরোধিতা ভালো এতে করে দেশের ও দশের স্বার্থ কাজ করে। এই অনুযায়ী দেশের ও দশের স্বার্থে সকলেই নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোদীকে মেনে নেবে বলে আমি আশা করি।
আজিমউল্লাহ হানিফ
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রতিবেশী দেশগুলো সু-সম্পর্ক গড়ে উঠুক এই প্রত্যাশা আমাদেরও।
মাসুদ আলম বিপ্লব
উর্দুরোড, লালবাগ, ঢাকা
নরেন্দ্র মোদী ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী। নতুনের কাছে সে দেশের জনগণের চাওয়া পাওয়া অনেক। সে প্রত্যাশা ও আশায় সে দেশের জনগণ ভোট দিয়েছে। ঠিক কাজটি সে দেশের জনগণ করেছে। সঠিক গণতন্ত্রের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হওয়ায় যারা ভারত বিরোধী ছিলেন তারাও আজ ভারতপ্রীতিতে দেখা যাচ্ছে। তাই আমরা আশা করছি নতুন প্রধানমন্ত্রী সবার স্বপ্ন পূরণ করবেন।
শিলা
সিডনী, অস্ট্রেলিয়া
২০০৪ থেকে ২০১৪ইং সাল সে ছিল ভারতের প্রধান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মনমোহন সিংহ। গত ২৬ মে ২০১৪ইং থেকে শপথের মাধ্যমে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী। গণতন্ত্রের এক নতুন উন্মোচন হলো। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। অন্যদিকে তাদের কাছ থেকে সঠিক গণতন্ত্রের ধারা শেখার আছে বলে আমরা মনে করছি।
আতিকুর রহমান
মধ্যবাড্ডা, ঢাকা
কংগ্রেসের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির জন্য আজ ভারত গণতান্ত্রিকভাবে উন্মোচন করেছে বিজেপি। যারা ভারতের রাজনীতি, ও ভারত বিরোধী ছিলেন তারা আজ নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শান্তির ও ভারতপ্রীতির আলামত দেখাতে দ্বিধাবোধ করছে না। তাই আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী মোদী তার সঠিক নীতিতে বহাল থাকবেন।
আইরিন সুলতানা (সন্জু)
মাইজপাড়া, ধুপপুর, চট্টগ্রাম
সারা ভারতে এখন জয়-জয়কার। বিজয়ের মশাল নিয়ে ভারত এখন এগিয়ে যাবে। প্রতিবেশী দেশগুলো আর এখন বসে নেই। নেমে এসেছে ভারত প্রীতিতে। ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হচ্ছে-এর মূল কারণ। তাই আমরা আশা করবো নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবার সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবেন। এতে করে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো তাতেই আস্থা নিয়ে কাজ করবেন।
মারুফুজ্জামান মারুফ
বাসাবো, ঢাকা
ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হওয়ায় প্রতিবেশী রাজনীতিতে দক্ষিণা বাতাস বইতে শুরু করেছে। যে বাতাস কোন কোন দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতপ্রীতির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। যা শুভলক্ষণ বটে। আমাদের প্রত্যাশা তাই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো নিবিড় হোক এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান হোক।
মাসুম আহমেদ
শিকড় সন্ধানে
সম্পাদক ও প্রকাশক
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
কাউকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা ঠিক নয়। ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবনে কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনেও এই প্রশংসা গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মে বলে দেয়া সব।
“জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো”- কথাটি অনেকাংশে সত্য। ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচন থেকে শপথগ্রহণ পর্যন্ত যা করেছেন-এটাকে দিয়ে সব ফলাফল নয়। ফলাফল হবে তার কর্মের মধ্যে দিয়ে। বন্ধুপ্রীতিম প্রতিবেশী দেশের সাথে বাস্তবে কতটুকু কি হবে। এটা সময় বলে দেবে।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ এই ভারত। বৃহত্ একটি দেশ। সে দেশের নতুন সরকার গঠন হয়েছে। তাই এখন নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনেক কাজের মধ্যে প্রধান কাজই হবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পথ চলা।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, ঢাকা
নরেন্দ্র মোদী ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী। সদ্য সমাপ্ত এই প্রধান মন্ত্রীর শপথ নেয়ার পর তার নতুন কর্মের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় সারা বিশ্ব আজ দেখছে ভারতের রাজনীতির পালাবদল। তাই এই নতুন রাজনীতির পালাবদলকে ধরে রাখতে হবে।
আব্দুল মালেক মিয়া
দলিল লেখক
মনিপুর-২, মিরপুর-ঢাকা