[ আলোকপাত ]
বাংলাদেশকে মমতার অভিনন্দন নজরুল তীর্থ :সম্পর্কের পিরামিড
প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৪, ২২:২৮
২৬ মে, সোমবার সন্ধ্যে। বঙ্গীয় সমতটে জ্যৈষ্ঠের ঝমঝম বৃষ্টি, প্রথম বৃষ্টি যখন নামল, ঠিক তখনই কলকাতার সদ্য নির্মিত নজরুল তীর্থে প্রায় এক লাখ বর্গফুটের সুরমা বাড়ি উদ্বোধন করতে গিয়ে দক্ষ চারণ কবির মতো, মুখস্থ বিদ্যায় পারদর্শী ছাত্রীর মতো কালোত্তীর্ণ নজরুল ইসলামের একাধিক কবিতা বলতে বলতে অখণ্ড বাঙালির অবিভাজ্য সম্পর্কের, সাংস্কৃতিক ঐক্যের আর ঐতিহ্যের অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিলেন বাক্পটু জননেত্রী মমতা ব্যানার্জি।
তোতা পাখির মতো এসব শব্দ, শব্দবন্ধ অনেক সময় আমরা আওড়ে যাই। কিন্তু সত্য কাজে রাজি হতে অসংখ্য হাতের মিলন, শরীরী ঐক্য আমাদের স্পর্শ করে না। দেশ ভাগের পরে, মনীষী অন্নদাশঙ্কর রায় কালোত্তীর্ণ কবিকে স্মরণ করে বলেছিলেন, ভুল হয়ে গেছে বিলকুল, ভাগ হয়নিকো নজরুল। তাঁর এই ছড়া-কবিতার বেদনাময় বাণী প্রবাদবাক্যের মতো আজও জপতপ করি আমরা। কিন্তু সামাজিক আচরণে নজরুলের ভাবাদর্শকে সংকল্পে, মিশ্র সংস্কৃতির প্রাঙ্গণে, ঐতিহ্যের খোঁজে যতটা ব্যবহার করি, তার চেয়ে পারস্পরিক প্রহারে ব্যস্ত থাকি অনেক বেশি। অর্থাত্ নজরুলের, জ্যৈষ্ঠের ঝড়োবৃষ্টির সৌন্দর্যকে ভুলে থাকতে সবাই অভ্যস্ত। মনে হয়, এখানেই নিষ্কর্মা রাজনীতির পাশাপাশি আমাদের ভেতরের দীনতাও প্রকট হয়ে ওঠে।
নজরুল তীর্থ সম্পর্কের পিরামিড
ছিলেন একজন নজরুল ভক্ত বিধান রায়, স্বরহীন গুরুতর অসুস্থ কবিকে ভিয়েনায় পাঠিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছিলেন, তাঁর চেষ্টায় ত্রুটি ছিল না। কিন্তু সমাজ কবিকে পূজার আসনে বসিয়ে তাঁর জন্মদিনের পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে, পরে বিসর্জনের অদৃশ্য জলে ভাসিয়ে দেয়ার মনোভাবকে উঁচু করছে, ক্রমাগত। জাতির সৌভাগ্য, অখণ্ড শুভবুদ্ধি বৃহত্তর সমাজ কবিকে ভোলেনি। জাতির আরেক পরম প্রাপ্তি, পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসে ৭১ সালে তার প্রথম স্বাধীন দেশ গড়ে উঠল। আর এদেশের জনকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন এমন একজন জনক, (বঙ্গবন্ধু) যাঁর মর্ম আর কর্মকে স্পর্শ করল রবীন্দ্রনাথের বিশ্বজনীন মঙ্গলবোধ, নজরুলের সাম্যময় চিরবিদ্রোহ আর মিশ্র সংস্কৃতির সাধনা। জনসংগীত নির্বাচিত হল ‘আমার সোনার বাংলা আর নজরুলকে বসানো হল জাতীয় কবির আসনে।’ নাগরিকত্ব দিয়ে নিয়ে যাওয়া হল ঢাকায়। শেখ মুজিবের এই দুই মহত্ ভাবাবেগে তাত্ক্ষণিক উচ্ছ্বাসের চাইতে অনেক গভীর এবং স্বপ্নময়, এবং যুক্তিপূর্ণ, এবং ভবিষ্যত্মুখী অন্তর্যামির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। এসব জানা কথা। তবু আবার, এই মুহূর্তে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে ইচ্ছে করছে। কারণ, দুই কবির কবিতা প্রেমিক এবং সমাজদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর ব্যাখ্যারহিত অবদানকে মননে এবং কাজের ধর্মে প্রয়োগ করলেন বাঙালির আরেক জনকণ্ঠ। তিনি মমতা। বললেন, কলকাতার নজরুল তীর্থ হয়ে উঠবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পিরামিড।
ভণ্ড আনুগত্য প্রদর্শন বা নিয়ন্ত্রণহীন প্রশস্তিবাক্য উচ্চারণ করা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। হজরত মুহম্মদের (স.) ওই অমর বাণীকে আমরা অতিশয় গুরুত্ব দিচ্ছি ‘কেউ যদি তোমার সামনে তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে, তার চোখে বালু ছিটিয়ে দাও।’
সোমবার সন্ধ্যায়, এই প্রথম মমতার সঙ্গে এই লেখকের মুখোমুখি আলাপ, এই প্রথম তাঁর সঙ্গে মৃদু করমর্দন। হাত জোড় করে, অবনত বাক্যে অবশ্যই বলার সুযোগ ছিল যে, আপনার আজকের ভাষণ, নজরুল তীর্থের অসাধারণ স্থাপত্য, কবিকে নিয়ে বহুমুখী গবেষণার পরিকল্পনা তুলনাহীন। এই ধরনের বাক্য শুনতে অভ্যস্ত মুখ্যমন্ত্রীর হয়তো ভালো লাগত না। আমারও নিজেকে স্বার্থান্বেষী, তোষণচোস্ত মনে হত। তবে গর্বিত বোধ করছি—অনাহূত, অচেনা এই লেখকের সঙ্গে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। পুর ও নরো উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ ও হাকিমও বসার সুযোগ দিলেন। বলতে ভালো লাগছে, এই ধরনের সৌজন্য সচরাচর দেখা যায় না।
পাশেই বসে আছেন কবি জয় গোস্বামী, নাট্যকার মনোজ মিত্র। মঞ্চে বঙ্গ সংস্কৃতির নক্ষত্রকুঞ্জের সমাবেশ, মাঝখানে বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আর সঞ্চিত পূঞ্জীভূত ব্যথার অবসানে আপ্লুত কবি পরিবারের সদস্যরা। মঞ্চের একপাশে সঞ্চালক কবির নাতনী কাজী অনিন্দিত। আরেক প্রান্তে ডাগর চোখের কবির প্রতিকৃতি উপচেপড়া ভিড়কে দেখছে। নিঃশব্দে শুনছে তাঁর দ্রোহিসত্তার, সাম্য চিন্তার ব্যাখ্যা। একে একে অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত থেকে সাঁওতাল কন্যা বসন্ত হেমব্রম—এরকম একুশ গুণীর হাতে বিশ্ব-উজ্জ্বল বহুপ্রতিভার নামে পুরস্কার তুলে দেয়া আর নানাজনের ভাষণ শেষ হওয়ার পর ছক ভেঙে অনাড়ম্বর, অলঙ্কারহীন ভাষায় বলতে লাগলেন মমতা। গালে হাত, প্রবল ভিড়ে নিঃসঙ্গ শ্রোতার মতো শুনছি। লক্ষ্য করলাম, তাঁর আমিত্বহীন নাতিদীর্ঘ বয়ানে ‘আমি’র বদলে ‘আমরা’ই মুহুর্মুহু অগ্রাধিকার অর্জন করছে।
কী বললেন সতর্ক মমতা?
আমাদের বাংলা দেশভাগের বলি। কিন্তু বলির ঊর্ধ্বে কাজী নজরুল। তিনি অবিভাজ্য, আমরা গর্বিত তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি আর আমাদের প্রাণের কবি, ভালোবাসার কবি। বাংলাদেশকে অভিনন্দন, তাঁকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা তা পারিনি। তাঁর গণসঙ্গীত, শ্যামাসঙ্গীত, তাঁর বিদ্রোহ, তাঁর মানসিক ঐক্য আর মিলনের সাধনা চির প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল দুই বাংলার অবিচ্ছেদ্য সেতু। কবিগুরুর ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। শুনেছি, শ্রীলঙ্কায়ও ওই, সুরে সমবেত কণ্ঠে গান করেন ওখানকার বিভিন্ন জাতি। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে কবিতীর্থ গড়েছি। এবার দশ মাসে নজরুল তীর্থ গড়ার কাজ শেষ। সবঅর্থে এক তীর্থস্থল হয়ে উঠবে। মানুষের মুখে মুখে তীর্থের নাম ঘুরবে। স্বতঃস্ফূর্ত উচ্চারণে সহজাত ভঙ্গিতে আরো কয়েকটি কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী—এক. বাঙালি এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী। বিশ্বে বাংলাভাষার স্থান ৫ম। অতএব, এই জাতিকে হেলাফেলা করা যাবে না। দুই. আমাদের স্বপ্ন ছিল নজরুলকে নিয়ে বহুধরনের নির্মাণের বিন্যাস। কাজ শুরু হয়েছে। চুরুলিয়ায় নজরুল নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন শুরু হয়ে গেছে। দুর্গাপুরে তাঁর নামে বিমানবন্দর প্রায় সমাপ্ত হতে চলল। কলকাতায় নজরুল একাডেমী সম্পূর্ণ, এখানে গবেষণা হবে। কবি জয় গোস্বামী তার শীর্ষে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একাডেমিতে জড়ো হবে অসংখ্য মেধাশক্তি এবং নজরুল গানে ক্যাসেটে ভরে উঠবে আর্কাইভ। তিন. আমরা যখন এসব কর্মযজ্ঞ শুরু করি, কেউ কেউ আড় চোখে তাকিয়েছেন। বলে বেড়িয়েছেন, সংখ্যালঘুদের টাকায় এসব হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমার সাফ কথা, সংখ্যালঘুরাও তো মানুষ। কোনো একটি সম্প্রদায় এত কাজে টাকা যোগাতে পারে? সংখ্যাগুরু নির্মাণের অংশীদার না হলে কি কোনো মহত্ কর্ম সম্ভব? বলেই তিনি একটু বিমর্ষ, কিন্তু তাঁর অভিমানে তীব্র বিদ্রূপ আর শাণিত আক্রমণ—নজরুল কবি, বড়ো কবি। কবিকে নিয়ে জাতের নামে বজ্জাতি! না, এসব সহ্য করব না।
নেপথ্যে পুঞ্জীভূত অভিমান
নজরুলের কবিসত্তার বহুমুখী ব্যক্তিত্বের এবং চিত্তজয়ী গ্রহণযোগ্যতার পুনর্বাসনের আগে অনেকেই কটু কথা বলেছেন। এসব বলতেও লজ্জিতবোধ করেননি যে, মমতার কাজে চটক আছে, নাটকীয়তা আছে, বিশেষ ধরনের তোষণের লক্ষণও আছে। মানে, সামনেই পর পর নির্বাচনের নৌকা, বিশেষ এক সম্প্রদায়ের ভোট জড়ো করে তাকে নদীজল পেরোতেই হবে।
স্বীকার করছি, রাজনীতি হিসেব কষে কথা বলে, প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু রাজনীতির যে মুখ তৃণস্তরকে ছুঁয়ে থাকে, যাকে জড়িয়ে ধরে বঞ্চিতের বেদনা, প্রান্তজনের অভিমান এবং জাতিসত্তার পরাজয়ের ইতিহাস-তার তৃতীয় নয়নের ভাষার সরল ব্যাখ্যা, অন্যের পরশ্রীকাতরতা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টাকে কি বিনা প্রশ্নে সাধারণ মানুষ মেনে নেবে? না কাজের নিরিখে বিচার করবে ব্যক্তি প্রয়াসের অদম্য উত্সাহকে?
নজরুলের শতবর্ষে
নজরুলের নিবিষ্টপ্রায় সব পাঠকেরই জানা কথা, এক সময় সাম্যবাদী আদর্শের প্রবক্তা ছিলেন নজরুল। তাঁর প্রতি বামপন্থিদের অনুরাগে অস্বচ্ছতা নেই। কিন্তু তাঁরা যখন রাজ্য পরিচালনার নামে ক্ষমতায় বসলেন, তখন কেন গড়ে উঠল না নজরুল গবেষণাগার বা বিশ্ববিদ্যালয়? কবির প্রতি সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার দাবি কী কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেল না? হ্যাঁ, বাম আমলে নজরুল মঞ্চ গড়ে উঠেছে, জন্মদিনকে ঘিরে আয়োজনেরও খামতি ছিল না। তবু আসাম, বাংলাদেশ, ত্রিপুরাকে নিয়ে নজরুল শতবর্ষ পালনের সামাজিক দায়িত্ব কেন আজকাল পত্রিকার সহযোগিতায় আরম্ভ পত্রিকাকে বইতে হল?
১৯৯৮ সালের ওই অনুষ্ঠানে দাবি ওঠে-গড়ে উঠুক স্বশাসিত নজরুল একাডেমী ও মিউজিক রেকর্ড। লেখা হোক কবির প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ। স্বাধীনতা সংগ্রামের একমাত্র কারাবাসী কবির সম্মানে প্রকাশ করা হোক ডাকটিকিট। অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস নামে রেল দপ্তর চালু করুক যেকোনো দ্রুতগামী ট্রেন। কেন্দ্রে তখন অটলবিহারী বাজপেয়ির সরকার। যোগাযোগ মন্ত্রী শিলচরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রাক্তন বিদ্যাদাতার কবীন্দ্র পুরকায়স্থ। মমতার হাতে রেলমন্ত্রকের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব। এসব দাবি সম্পর্কে তাঁরা ওয়াকিবহাল ছিলেন কিনা আমাদের জানা নেই। কিন্তু দিনকয়েকের মধ্যেই কবীন্দ্রবাবুর নির্দেশে ডাকটিকিট বের হল। আর মমতা চালু করলেন অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস। দাবিটি ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর নয়। ছিল সমষ্টির। তখনকার কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী সামাজিক আর্জি ভেবেই সম্মান জানালেন কবির শতবর্ষের সূচনাকে।
কলকাতায়, কবির জন্মাঞ্চল চুরুলিয়ায় এই মুহূর্তে যেসব উত্সব চলছে, তাঁর জন্মদিনের উত্সবকে কেন্দ্র করে আবেগের যে স্রোত বইছে, তথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিকতা তাঁকে অস্বীকার করতে পারে, কিন্তু মানব প্রকৃতির মঙ্গলবোধ প্রয়োজনকে এড়িয়ে যায় না, যেতে পারে না। সবল নেতৃত্বের স্পর্শে উপেক্ষা, সাম্প্রদায়িক উদাসীনতা আর সন্দেহের অবাস্তবকে সে নস্যাত্ করে দেয়। নিঃসঙ্কোচে বলছি, রাজারহাটে কয়েক একর জমিতে নজরুল তীর্থ নির্মাণ করে, সমাজদর্শনের দীপ্ত প্রতিমা রচনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারের, বলা বাহুল্য মমতা ব্যানার্জির নির্মাণের স্বপ্নকে স্থাপত্যময় করে তুললেন ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিষ সেন, তরুণ স্থপতি অভীন চৌধুরী, কেজি এন্টারপ্রাইজেস এবং পাঁচশো দক্ষ কারিগর। এক হাতে কিছুই গড়ে ওঠে না, একটি আলপিনও না। তাই শ্রাবণের ধারার মতো কৃতিত্বের অভিনন্দন ঝরে পড়ুক সবার দেহে, সবার চিত্তে।
আত্মবিশ্বাসে সুদৃঢ় বার্তা
আরেকটি কথা, বাইরে থেকে আমরা যতদূর জানি ‘নজরুল তীর্থ’ উদ্বোধনের কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন বলে ভারতের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে মমতা যেতে পারেননি। আগেই বলেছি, কলকাতায় এদিন প্রবল বৃষ্টি। কিন্তু বলা হয়নি, দিল্লিতে অনাবৃষ্টিতেও আনন্দের প্রবল বর্ষণ। ওখানকার বর্ষণ কি বাঙালিকে স্পর্শ করল? না, তার অভিমানকে বঞ্চনাকে জাতিসত্তার ঐক্যের শক্তিকে উসকে দিল?
ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এককথায় অভিনব, দর্পিত আর উপেক্ষার বিরল দৃষ্টান্ত। বাঙালির প্রতিনিধি নেই, এমন ক্যাবিনেটও তাহলে ওজনে এক নম্বর! নরেন্দ্র ভাইয়ের সর্বভারতীয় গ্রহণযোগ্যতার গৌরব শুরুতেই উধাও? না এটাও তাঁর হাইটেক কৌশল? বিজেপির প্রবল প্রতিপক্ষ মমতার হাতে জড়ো হল আরো এক জবরদস্ত ইস্যু। এজন্যই কি অখণ্ড বাঙালির আত্মীয় নজরুলের জন্মদিনে মাথা উঁচিয়ে বললেন, মনে রাখবেন আমরা এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জনশক্তি। এজন্যই কি ভারতীয়তার প্রবল আনুগত্য অক্ষুণ্ন রেখেও তাঁকে বলতে হল, সব ভেদাভেদ আর সবধরনের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে নজরুলের বসবাস। তাঁর নামে গড়ে ওঠা এই তীর্থ হয়ে উঠবে দুই বাংলার সংস্কৃতি চর্চার আরেক উত্স। তাঁর এই গুরুস্বরে, এই ভাষায় কীসের আভাস? এ কি কেবল হুঁশিয়ারি, শব্দে আঁকা ছবি? নাকি বাংলার প্রতি, বাঙালির প্রতি কেন্দ্রের যুগ যুগ ব্যাপী বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুদৃঢ় প্রতিবাদের উজ্জ্বল অভিমুখ?
লেখক : ভারতীয় সাংবাদিক, সম্পাদক আরম্ভ পত্রিকা।