কুমিল্লায় ছাত্রলীগের সংঘর্ষ এমপির ভাতিজা নিহত

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে এক পক্ষ কলেজ সংলগ্ন মুন্সেফবাড়ি এলাকায় প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে ঢুকে অতর্কিতে হামলা, ভাংচুর ও গুলি করতে থাকে। তাদের বাধা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা গার্ড বাংলাদেশের পরিচালক আহসান হাবিব সুমু (৩৫) নিহত হন। নিহত সুমু কুমিল্লা সদর আসনের সরকার দলীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের আরো দুই নেতা গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি ও কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। স্থানীয় এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার সমর্থিত কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম রিন্টু এবং ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমেদ রাসেল গ্রুপের মধ্যে এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিন্টু গ্রুপের অনুসারী নগরীর মুন্সেফবাড়ি ইউনিট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সজিব চক্রবর্তী গিট্টুর ছোটভাই ছুট্টু চক্রবর্তীকে কলেজের সামনে পেয়ে রাসেল গ্রুপের কর্মীরা মারধর করে। পরে ছুট্টুর নেতৃত্বে মুন্সেফবাড়ি এলাকা থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় কলেজে গিয়ে রাসেল গ্রুপের উপর হামলা চালায়। এসময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ রাসেল গ্রুপ সংঘবদ্ধ হয়ে কলেজের নিকটবর্তী মুন্সেফবাড়ি এলাকায় গিট্টু চক্রবর্তীর বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা গার্ড বাংলাদেশের পরিচালক আহসান হাবিব সুমু (৩৫) হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে ঘটনাস্থলে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এসময় সুমু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে ফের পেটাতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা সুমুকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আ.ক.ম বাহাউদ্দিনের চাচাতো ভাই সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মৃত ওমর ফারুকের ছেলে সুমু। তার একমাত্র সন্তান আহসান ইয়ামিন (৯) নগরীর অ্যাথনিকা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা গিট্টু চক্রবর্তীর চাচাতো ভাই পান্না চক্রবর্তীর পুত্র প্রিতম চক্রবর্তী পিংকু (২৫) ও অপর চাচাত ভাই চুন্নী চক্রবর্তীর পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তী রণি (২১) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এদের মধ্যে পিংকুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সুমুর স্ত্রী আরিফা আক্তার সোমা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং তার স্বামীর খুনীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান। কোতয়ালি মডেল থানার ওসি খোরশেদ আলম জানান, ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল ৪টার দিকে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় নগরীতে উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।