খুলনায় গোপন সংগঠন ‘বাঙালি ঐক্য পরিষদ’
প্রকাশ : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:২২
দুই বাংলাকে এক করতে হবে, তুলে দিতে হবে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফের নির্যাতন বন্ধ এবং তাদের হাতে হতাহতদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে—এ দাবিগুলো সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ জনপদে মাথাচাড়া দিয়েছে একটি গোপন সংগঠন। ‘বাঙালি ঐক্য পরিষদ’ নামে ওই সংগঠনটি ইতিমধ্যে খুলনার শিরোমনি, খালিশপুর, দৌলতপুর ও তেরখাদা উপজেলায় গোপনে তত্পরতা শুরু করেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ সংগঠনের সদস্য একশ’ জনের মত হবে। বামঘরানা ও বিভিন্ন সময় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হতাশ যুবকরা এ সংগঠনের সাথে যুক্ত।
ইতিমধ্যে গোপন এই সংগঠনের দুই সদস্যকে আইন-শৃংখলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাদের দাবি সম্বলিত প্রচারপত্র ছাপার অপরাধে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাটিকে সিলগালা করার জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর খুলনাবাসী রয়েছে আতংকে। পুলিশের সূত্র জানায়, চলতি মাসে এ অঞ্চলে তাদের তত্পরতা প্রকাশিত হয়। কয়েকদিন আগে খুলনা মহানগরীর খালিশপুরে তাদের দাবি সম্বলিত প্রচারপত্র বিতরণ করে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করে এ সংগঠনটি। খালিশপুর পিপলস গোলচত্ব্বরে লিফলেট বিতরণ করার সময় পুলিশ কয়েকদিন আগে দুই সহোদরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মেহরাব হোসেন মাসুম ও মো:মুরাদুজ্জামান। এ ব্যাপারে খালিশপুর থানায় গত সপ্তাহে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় একশ’ জন। সংশ্লিষ্ট খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান জানান, দেশের সার্বভৌমত্বের হুমকি, প্রতিবেশী দেশের সাথে বন্ধুত্ব নষ্ট এবং নিরাপত্তা বিঘ্নকারী প্রচারপত্র ছাপার অপরাধে ‘সরস প্রিন্টিং প্রেস’টিকে সিলগালা করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রেসটির অবস্থান নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায়। ছাপাখানার মালিক বানরগাতির আরামবাগ এলাকার আলমগীর হোসেন। কেএমপি’র নগর বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার গত ২২ মে ছাপাখানাটি সিলগালা করার পাশাপাশি ডিক্লিয়ারেশন বাতিল করার জন্য আবেদন করেছে। জেলা প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, নব্বইয়ের দশকে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন নামে গোপন সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সময়ে দক্ষিণের কোন না কোন এলাকায় প্রতিদিন খুন-অপহরণের বিষয় ছিল এক নৈমিত্তিক ঘটনা।