৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব প্রাপ্তির উত্স
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৪, ১৯:৪৬
দেশের ইনডেন্টিং ব্যবসায়ে বর্তমানে অসম প্রতিযোগিতার কারণে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। অস্থিরতা কাটিয়ে এ ব্যবসাটিকে সঠিক ভিত্তির উপর দাঁড় করানো গেলে এ খাত থেকে বছরে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আসতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ আমদানিকারকের অনুকূলে বিদেশি সরবরাহকারীর প্রো ফরমা ইনভয়েস নিবন্ধনহীন স্থানীয় এজেন্ট সরবরাহ করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলমান থাকলে নিবন্ধনধারী ইনডেন্টিং ব্যবসা বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলেও তাদের আশংকা। এই অবস্থায় আসছে বাজেটে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ চালানপত্র প্রদানকারী এজেন্টদের নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং তাদের উপর প্রযোজ্য হারে কর আরোপের দাবি জানিয়েছেন নিবন্ধনধারী ইনডেন্টরা।
আমদানি নীতি আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত স্থানীয় ইনডেন্টর কর্তৃক জারিকৃত ইনডেন্ট অথবা বিদেশি উত্পাদনকারী, বিক্রেতা বা সরবরাহকারী কর্তৃক জারিকৃত প্রোফরমা ইনভয়েসের বিপরীতে ঋণ পত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি উত্পাদনকারী বা সরবরাহকারী সরাসরি আমদানিকারকের অনুকূলে প্রোফরমা ইনভয়েস প্রদান করলে আইনগত কোন বাধা নাই। কিন্তু বিদেশি রপ্তানিকারকরা সাধারণত বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে প্রোফরমা ইনভয়েস প্রদান করে না। এই কাজটি স্থানীয় এজেন্টরা দেশের অভ্যন্তর থেকে বিদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সরাসরি প্রোফরমা ইনভয়েস প্রদান করে থাকে। এর ফলে ট্রেড লাইসেন্স ফি, ইনডেন্টিং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট ফি, উেস আয়কর, ভ্যাট ও কর্পোরেট কর দেয়ার প্রয়োজন হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনও তাদের নেই। অভিযোগ রয়েছে, এর ফলে কর ফাঁকি দেয়া সহজ।
অন্যদিকে একজন ইনডেন্টরকে প্রতিবছর ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ন্যূনতম ১ হাজার ৩শ’ টাকা, ইনডেন্টিং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বাবদ ৪০ হাজার টাকা, উেস আয়কর এবং বছর শেষে সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে কর্পোরেট কর প্রদান করতে হয়। এ ছাড়া ইনডেন্টিং ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং বিদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সাথে এজেন্সী চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি গ্রহণ করতে হয়। অনিবন্ধিত এজেন্টদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে এসব খাতের রাজস্ব আসার পাশাপাশি অসম প্রতিযোগিতাও কমবে। ইনডেন্টরদের হিসাবে এর ফলে ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ১ হাজার ৩শ’ টাকা, আয়কর খাতে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা, নিবন্ধন ফি’র মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার টাকা এবং প্রতি বছর নবায়নের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা আদায় হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রতি বছর গড়ে ২০ লাখ ঋণপত্র (এলসি) খোলা হলে ন্যূনতম ২শ’ মার্কিন ডলার হিসাবে ৪০ কোটি ডলার রাজস্ব আদায় হবে বলে তারা মনে করেন। টাকার অংকে এর পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকার উপরে।
তাদের দাবি, এর ফলে স্থানীয় এজেন্টগুলোর সরাসরি প্রোফরমা ইনভয়েস প্রদানের প্রবণতাও কমে যাবে। এ লক্ষ্যে আমদানি নীতিতে সংশোধনী আনা প্রয়োজন। ইনডেন্টিং এজেন্টের মাধ্যমে আমদানি ব্যবসা পরিচালন, প্রোফরমা ইনভয়েস প্রদানকারীর বাধ্যতামূলক নিবন্ধিত হওয়া, প্রোফরমা ইনভয়েস এ স্থানীয় প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করা ও তাকে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক করাও প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
বর্তমানে আমদানিতে ওভারইনভয়েসিংয়ে বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। যা দিয়ে কয়েকটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যায়। চীন ও ভারত থেকে পণ্য আনদানি তথ্য সঠিক নয়। হিসাবের বাইরে যেসব পণ্য আসে, সেগুলোর রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।