আম প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

আম শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। পর্তুগিজরা আমকে ম্যাংগা, ফরাসী ভাষায় ম্যাংন্ড এবং চিনদেশে ম্যাংকো নামে পরিচিত। আম প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কেননা আম অধিকাংশ মানুষের কাছে সুপ্রিয় পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। বিষ্ণু দাশ,গবেষক আম গাছ ইংরেজি নাম : Mango বৈজ্ঞানিক নাম: Mangifera indica আম শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। পর্তুগিজে আমকে ম্যাংগা, ফরাসী ভাষায় ম্যাংন্ড এবং চিনদেশে ম্যাংকো নামে পরিচিত। আম প্রকৃতির একটি গুরুতপূর্ণ উপাদান। কেননা আম অধিকাংশ মানুষের কাছে সুপ্রিয় পুষ্টিসমৃদ্ধ ফল। প্রত্যেক বাড়ীতে আর না হলেও একটি আম গাছ রয়েছে যা প্রাকৃতিক বৈচিত্রকে সমৃদ্ধ করে তুলছে। আম চাষের ইতিহাস হাজার বছরের পুরানো। আম ভারতীয় উপমহাদেশীয় এক প্রকারের সুস্বাদু ফল। এ ফলের বিভিন্ন নাম রয়েছে। কাচা অবস্থায় এর রং সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ রং হয়ে থাকে। আমের বিভিন্ন জাতের মধ্যে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুণা, আম্রপালি, মল্লিকা, সুবর্নরেখা, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, কাচামিঠা, আলফানসো, বারোমাসি, তোতাপূরী, কারাবাউ, কেঊই সাউই, গোপাল খাস, কেন্ট, সূর্যপূরী, পাহুতান, ত্রিফলা প্রভৃতি। বাংলাদেশ ও ভারতে যে প্রজাতির আমের চাষ হয় তার বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica| পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আম গাছ বাংলাদেশের জাতীয় গাছ । উদ্ভিদ তত্ত্ব আম গাছ চিরসবুজ ছত্রাকৃতির বৃক্ষ। এ গাছ আকারে মাঝারি থেকে বড় আকারের হয়ে থাকে। সাধারণত ৩৫-৪০মি: লম্বা এবং সর্বোচ্চ ১০মি: ব্যাসার্ধের হয়ে থাকে। এ গাছের কান্ড সরল, উন্নত এবং শাখায়িত। বাকল অমসৃণ ও ধুসর বর্ণের। আম পাতা চিরসবুজ, সরল, পর্যায়ক্রমিক, ১৫-৩৫ সে:মি: লম্বা এবং ৬-১৬ সে:মি: চওড়া হয়ে থাকে এবং বোটা নাতীদীর্ঘ। কচি পাতা অত্যন্ত কোমল, লালচে-গোলাপী রঙের বা ঘোর তাম্রবর্ণ। আম গাছ দীর্ঘজীবী্ হাজার বছর ধরেও বাঁচতে পারে। মাঘ মাসে আমের ডালে মুকুল আসে। গোটা আম গাছ জুড়েই মুকুলে ভরে যায়। পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ফুলই একই গাছে দেখা যায়। ফুলগুলো খুব ছোট, কিছুটা সুগন্ধি প্রকৃতির। ফুল থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত প্রায় ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগে। অজস্র বৈশিষ্ট্যধারী আম। আকৃতিগত দিক থেকে আম বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। আমের বিভিন্ন জাতের উপর নির্ভর করে আম ছোট, বড়, মাঝারী, গোল, লম্বা, সরু বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। রঙের দিক থেকে সবুজ,ঈষত্ হলুদ, গাঢ় হলুদ, সিঁদুরে হয়ে থাকে। এ ছাড়াও আম টক, মিষ্টি, অতিমিষ্টি আঁশযুক্ত, আঁশহীন, মধুগন্ধী, তীব্রগন্ধী হয়ে থাকে। আমের পুষ্টি উপাদান আম ভিটামিন সমৃদ্ধ ও মিনারেলে ভরপুর। আমের আহরোপযোগী অংশ ৭৪%। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে খাদ্য শক্তি রয়েছে ২৫০ কিলোজুল, জলীয় ৭৮.৬ গ্রাম; শর্করা ১৫.০; সুগার ১৩.৭ গ্রাম; আঁশ ১.৬ গ্রাম; স্নেহ ০.৩৮ গ্রাম; আমিষ ০.৮২ গ্রাম, ভিটামিন এ ৫৪ মি.গ্রাম; বিটা ক্যারোটিন ৬৪০ মিগ্রাম; থায়ামিন ০.২৮ মি.গ্রাম; রিবোফ্লাবিন ০.০৩৮ মিলিগ্রাম; নিয়াসিন ০.৬৬৯ মি.গ্রাম; প্যানথোনিকএসিড ০.১৯৭ মি .গ্রাম; ভিটমিন বি ৬ ০.১১৯ মি.গ্রাম; ফোলেট ১৩ মাইক্রোগ্রাম , কোলাইন ৭.৬ মি.গ্রাম; ভিটামিন ই ০.৯ মিগ্রাম; ভিটামিন K ৪.২ মি.গ্রাম; ক্যালসিয়াম ১১ মি.গ্রাম; আয়রন ০.১৬ মি.গ্রাম; খনিজ পদার্থ ০.৪ গ্রাম;, সুগার ১৩.৭ গ্রাম; ফসফরাস ১৬ মি. গ্রাম. আয়রণ ১.৩ মিলিগ্রাম; ম্যাগনেসিয়াম ১০ মি.গ্রাম;; ম্যাগানিজ ০.০৬৩ মি.গ্রাম; ফসফরাস ১৪ মিলিগ্রাম; পটাসিয়াম ১৬৮ মি.গ্রাম; সোডিয়াম ১.০ মি.গ্রাম; জিঙ্ক ০.০৯ মি.গ্রাম; লুটিন এবং জিজানথিন (lutein and zeaxanthin ) ২৩. মি.গ্রাম। কাচা আমের পুষ্টিগুণ কাঁচা আম শরীরের রক্ত পরিষ্কার, হার্টের সমস্যা প্রতিরোধে, রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ; গরমে ঠাণ্ডাজাতীয় রোগ প্রতিরোধ, কিডনি সমস্যা প্রতিরোধ, লিভার ভালো রাখা, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি; নিঃশ্বাসের সমস্যা ও জ্বরের উপশম;অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ, ত্বক উজ্জ্বল করা;কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। আমের ভেষজগুণ ও আম কাঠের ব্যবহার কাচা আম হওয়ায় এ আম আচার ও সবজি হিসেবে অধিক ব্যবহার হয়। আমের পাতা ও বাকল থেকে রঞ্জক পদার্থ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। চোখের রোগ নিরাময়ে কাচা আম উপকারী। পাকা আম,রেচক, টনিক এবং লিভার দোষে উপকারী। আম কাঠ উচ্চমানের কাঠ না হওয়ায় এ কাঠ বাড়ী নির্মাণ, শিল্প, প্যাকিং শিল্প ও জ্বালানী কাঠ হিসেবে অধিক ব্যবহার করা হয়।