ঘাড়ে ব্যথায় ফিজিওথেরাপি
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৪, ২০:২৬
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে প্রতি ১০ জন লোকের মধ্যে ৭ জনই জীবনের কোন না কোন সময় ঘাড়ের ব্যথা সমস্যায় ভোগে থাকেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ব্যথা সামান্য হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এধরণের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে পারে। ঘাড় ব্যথার কারণসমূহ
মেরুদন্ডের সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে।
সার্ভিক্যাল স্পনডাইলসিস বা ঘাড়ের হাড় ক্ষয় জনিত রোগ।
বারেত ব্যথা ও ওস্টিওফাইটস।
ডিস্ক পলাপস্ বা দুটি হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানের ডিস্ক সরে গেলে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
নার্ভ বা স্নায়ুচাপজনিত ব্যথা।
ঘাড়ের মাংস পেশী শক্ত হলে।
জন্মগত সার্ভিক্যাল রিব থাকলে।
অনেকক্ষণ কম্পিউটারে বসে কাজ করার সময় ঘাড়ের কাঠামো বা পজিশনে ঠিকমত না থাকলে।
স্পোর্টস ইনজুরি বা খেলাধূলার সময় আঘাত প্রাপ্ত হলে।
হেড ও নেক ইনজুরি কারণেও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
মেরুদন্ড কোন জীবানু দ্বারা সংক্রমিত হলে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে
হাড় ভেঙ্গে বা ফেটে গেলে।
ব্লক ভার্টিব্রা থাকলে বা দুটি হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে কোন ডিস্ক না থাকলে বা ফিউজড় হয়ে গেলে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
ভারী জিনিস বহন করার কারণে।
ঘুমের ব্যঘাত হলে বা ভাল ঘুম না হলেও ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
অন্যান্য যে কারণে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে আর তা হলো- টরটিকলিস, ইসোফেগাস ট্রমা, থাইরয়েড ট্রমা, ক্যান্সার, ট্রাকিয়ালি ট্রমা, ক্যারোটিডিনা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি।
ঘাড় ব্যথার লক্ষণ
ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করা।
ঘাড়ে ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
হাত ঝিন ঝিন ও জ্বালাপোড়া করা
হাতের আঙ্গুল বা জয়েন্ট ফুলে যাওয়া
হাত অবশ ও ভারী লাগা।
ঘাড়ের কার্যক্রম ক্ষমতা বা মুভমেন্ট কমে যাওয়া।
মাঝে মাঝে ঘাড়ের মাংসপেশী সংকুচিত হয়ে যাওয়া।
মাথা ব্যথা ও বমি হওয়া।
ঘাড় ও হাতের মাংসপেশী দুর্বল হয়ে যাওয়া।
বেশিক্ষণ লেখালেখি বা কম্পিউটারে বসে কাজ করার সময় হাত ধরে আসা।
হাতের শক্তি কমে আসা।
রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হওয়া।
পরামর্শ
ঘাড় আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই ঘাড়ের ব্যথা অবহেলা না করে এর সঠিক চিকিত্সা করানো উচিত। ঘাড় ব্যথার সঠিক কারণ, রোগ নির্ণয় করে একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা চিকিত্সা ও ব্যায়াম করে ঘাড় ব্যথা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। যেহেতু হাড় ক্ষয়ের কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয় এর জন্য প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। বর্তমান মানব জীবন আধুনিক প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। তাই দৈনন্দিন কাজ-কর্ম কম্পিউটার, ল্যাপটপ চালানোর ক্ষেত্রে ঘাড় হতে টেবিল চেয়ার ও কম্পিউটার ঠিকমতো রাখা। ভারী জিনিস বহন না করা। দূরের ভ্রমণের ক্ষেত্রে সার্ভিক্যাল কলার ব্যবহার করা উচিত। আর নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। এসব মেনে চললে ঘাড় ব্যথা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
ডা:সুস্মিতা ঘোষ (পিটি)
পেইন এন্ড ফিজিওথেরাপি স্পেশালিস্ট
পেইন এন্ড ফিজিও সেন্টার
(যমুনা ব্যাংকের উপরে)
বাড়ি ১৭/১, রোড ৬, ধানমন্ডি, ঢাকা