বিজেপি’র জয় :ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও উষ্ণ ও অটুট থাকবে সদ্যসমাপ্ত বিশ্বের সর্ববৃহত্ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ষোলতম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল। এই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ফলস্বরূপ নরেন্দ্র মোদির অতীত ইতিহাস ও বর্তমান মনোভাব নিয়ে শুরু হয় দেশে-বিদেশে নানা জল্পনা-কল্পনা। পার্শ্ববর্তী দেশ হিসাবে বাংলাদেশের মধ্যেও এই হিসাব-নিকাশের ব্যাপক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশসহ ভারতের অনেক প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ নানামুখী যুক্তির অবতারণা করেছেন। কিন্তু সব যুক্তি ছাপিয়ে আসল কথা হল ভারত বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সুস্থধারার গণতন্ত্র চর্চার অন্যতম ধারক ও বাহক। তাই দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উষ্ণ ও অটুট থাকবে তা বলা বাঞ্ছনীয়। মো.দিদার হোসেন বাবু আইনবিভাগ (চতুর্থ বর্ষ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০ এই অধ্যায়ের অবসান অত্যাবশ্যকীয় চাঁদ আকাশের বুকে অসংখ্য তারার মাঝে সুন্দর আর আমাদের দেশটি ধরণীর বুকে অসংখ্য দেশের মধ্যে সুন্দর। সুখকর বিষয়টি হল চাঁদের ন্যায় বাংলাদেশও রূপ-সৌন্দর্যের দিক থেকে নয়নাভিরাম। আর দুঃখজনক বিষয়টি হল চাঁদের কলঙ্ক তার ছায়া আর বাংলাদেশের কলঙ্ক রাজনীতি। রাজনীতি তো নয়, এ যেন দমন-পীড়ন এবং জ্বালাও-পোড়াও নীতি। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় বাংলাদেশ সময়-অসময় সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। মাত্র হাঁটতে শেখা একটি শিশুর পা ভেঙ্গে দিলে যেমন শিশুটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির উপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আঘাত বারবার হানলে দেশও স্থবির হয়ে পড়বে। তাতে মনে হচ্ছে এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে না পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে। তাই এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি অপরিহার্য। মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান অনার্স, শেষ বর্ষ ,ইংরেজি বিভাগ ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা। ০০০০০০০০০০০ শুধু ঢাকা-দিল্লি নয় সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথেও সুসম্পর্ক থাকবে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সব সরকার দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করতে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। তবে এবারের পরিস্থিতি একটু আলাদাভাবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ধর্মীয় বিষয়ে কট্টরপন্থি মনোভাব। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের কোনো ভাটা পড়বে না। পূর্বের মতই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। কারণ এতদিনে আমরা বুঝে গেছি নরেদ্র মোদি পররাষ্ট্রনীতি ঠিক রেখে আস্থা ও দক্ষতার সাথে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। তাছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য তা বেশ ভালোভাবে দিল্লি বুঝবে বলে আমার বিশ্বাস। ইতোমধ্যে সকল দেশের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে মোদি সরকার বেশ তত্পর এবং ধর্ম ও পূর্ব শত্রুতার জের নিয়ে গোঁড়ামি রাজনীতিকে পকেটে ভরতে চান না তা সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রেখে প্রমাণও করেছেন। মো. জাহিদ হোসেন এম.এস (গণিত) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০০০০০০০০০০০ মোদী জয়েও সুসম্পর্ক অটুট থাকবে ইতিহাস সৃষ্টি করা রাষ্ট্রনায়ক নরেন্দ্র মোদি মেধা, প্রজ্ঞা, পরিশ্রমের বলে আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্য নেতা তিনি। প্রতিটি দেশ তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ ভারতের সবচেয়ে নিকটবর্তী দেশ হিসেবে এই দুই দেশের আঞ্চলিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় আছে। বিজেপির জয়ে ক্ষমতা পাওয়া মোদীর পররাষ্ট্রনীতির ফলে এ সম্পর্ক আরো জোরালো হবে, এটা আশা করাই যায়। দুই দেশ পরস্পরের কল্যাণার্থে কাজ করে গেলে সম্পর্ক বজায় থাকার সমূহ সম্ভাবনা থাকবে। মো.মাহবুবুর রহমান তৃতীয় বর্ষ, এগ্রিবিজনেস ফ্যাকাল্টি শেরেবাংলা কৃিষ বিশ্ববিদ্যালয়! ০০০০০০০০০০ দুই দেশের স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে বিজেপির এই জয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। কেউ বলছে বিজেপির এই জয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলবে, আবার কেউ বলছে তা স্থিতিশীল থাকবে। তবে আমার মতে এই জয় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না। তারা এমনভাবে দেশের স্বার্থটাকে বড় করে দেখবে না যাতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা খারাপ ভাবমূর্তি সৃষ্টি হয়। কাজেই দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতে সীমান্ত সমস্যা, পানি বণ্টন, ট্রানজিট ও বাণিজ্য সম্পর্কিত আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সম্পর্ক আরো গভীর হবে। সেন্টু দাস ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।