পাবনায় ৪৫ হাজার একর জমিতে সেচ সঙ্কট
রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ মে ২০১৪, ২১:২৫
পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রকল্প এলাকার ৪৫ হাজার একর জমিতে সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বোরা আবাদের শেষ পর্যায়ে এসে সেচ সঙ্কটে ফলন বিপর্যয় ও ধান চিটা হওয়ার আশঙ্কায় চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বেড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফান্ডের অভাবে চলতি মওসুমে বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামত ও জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে না। সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুরের তেলকুপি নামকস্থানে ১৫ মে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের জলাধারের বাঁধ ভেঙে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়ার বৃশালিখায় ইছামতি ও হুরাসাগর নদীর মোহনায় একটি ক্লোজার এবং সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুরে ইছামতি নদী ও নদীর দু’পাড়ে উঁচু বাঁধ নির্মাণ করে জলাধার তৈরি করা হয়। সাড়ে ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ১৫০ মিটার প্রস্থ ও ১১ মিটার গভীরতার বিশাল জলাধারটির পানি ধারণ ক্ষমতা সাত কোটি এক লাখ ২৫ হাজার ঘনমিটার। বেড়া পাম্পিং স্টেশনে প্রতিটি ৫০০ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি পাম্প মেশিনের সাহায্যে হুরাসাগর নদী থেকে পানি তুলে জলাধারে সরবরাহ করা হয়। সেচ প্রকল্পের প্রাণ এই জলাধার থেকে ১৯টি সেকেন্ডারি, ৪৭টি টারশিয়ারি ও চার শতাধিক মাইনর ক্যানেলের মাধ্যমে ফসলের জমিতে সেচ দেয়া হয়। কিন্তু জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রকল্প এলাকায় সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে । খারাপ কথা শুনতে হবে, এমন মনে করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিদর্শকরা মাঠ পরিদর্শনে যাচ্ছেন না।
বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গত ১৫ মে রাত থেকে প্রকল্পের কমান্ড এরিয়া বেড়া সাঁথিয়া উপজেলায় ৪৫ হাজার একর জমিতে তীব্র সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এমনিতে পাবনা প্রকল্প এলাকায় চলতি মওসুমে প্রায় এক মাস বিলম্বে কৃষকেরা বোরো ধান রোপণ করেন। যে কারণে প্রকল্পের অধিকাংশ জমির বোরো ধান এখন কাঁচা ও আধা পাকা। এই এলাকার কৃষকরা মনে করছেন, এ অবস্থায় জমিতে সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা হওয়ার আশঙ্কা আছে।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কবিবুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তে ফান্ড না থাকায় জলাধারের বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না।