প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে :শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বর্তমানে এসএসসি-এইচএসসির মত পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্র প্রায় দুই মাস সময় নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। পরীক্ষা হচ্ছে দেড় মাসব্যাপী। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে হালনাগাদ ও আধুনিকায়ন করতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এ চিন্তা-ভাবনা চলছে। এটি বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের পরামর্শ প্রয়োজন। শুক্রবার রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমী মিলনায়তনে শিশুসাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। চন্দ্রাবতী একাডেমি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লেখক এখলাসউদ্দিন আহমদ, সুকুমার বড়ুয়া এবং মুহম্মদ জাফর ইকবালকে চন্দ্রাবতী একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা দেয়া হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত মহাজোট সরকারের ৫ বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বড় অভিযোগ কেউ করতে পারেনি। এ বছর এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার তথ্য পেয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আরো কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষার ব্যাপারেও অভিযোগ উঠেছে। এগুলো মন্ত্রণালয় সচেতনভাবে নজরে রাখছে ও তদন্ত করছে। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, বেশী নম্বর দিয়ে পাস করাচ্ছি, পরীক্ষার ফলাফলের পরে এ সমালোচনা করবেন না। পরীক্ষার আগে বলুন, কোথায় সমস্যা আছে। কোন শিক্ষার্থী ফেল করতে বিদ্যালয়ে আসে না। তারা অনেক শিখছে। যারা ফেল করে বা করছে তাদের শেখাতে পারি না বলে ফেল করছে। অর্ধেক পাস করল আর অর্ধেক ফেল করল, এটি মান রক্ষার প্রমাণ হতে পারে না। শিক্ষার্থীরা শিখছে কিনা বা কী শিখছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিতরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না। বেশীরভাগই অন্য জায়গায় চাকরি না পেলে এ পেশায় আসে। এক্ষেত্রেও তিন লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে আসে। তাই দায়িত্ববোধ (কমিটমেন্ট) থাকে না। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এজন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের ভূমিকাই প্রধান। তাদের হাতে প্রখ্যাত-প্রবীণ শিশুসাহিত্যিকদের পাশাপাশি নবীন শিশুসাহিত্যিকদের বইও তুলে দিতে হবে। অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের সময় জ্ঞান ও বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম ছিল বই। বই মানে শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়। বর্তমানে শিশু-কিশোরদের হাতের কাছে আছে টেলিভিশন, কম্পিটারসহ বিভিন্ন মাধ্যম। নতুন প্রজন্ম আমাদের মত বই পড়ে বড় হচ্ছে না। বই পড়া তাদের বেশীরভাগের জন্য বিড়ম্বনা। তারা টিভি দেখে, কম্পিউটার চালায়। ভিডিও দেখতে চায়। বইয়ের গল্পের সঠিক রুপায়ন নাটকে হয় না। চলচ্চিত্রেও যথার্থ হয় না। এতে লেখকের প্রতিও অবিচার করা হয়। বই পড়ার সময় পাঠক কল্পনা করে। ছবি দেখলে কল্পনাশক্তির ব্যবহার করা যায় না। তিনি বলেন, স্কুল-কলেজে আগের সেই লাইব্রেরি নেই। লাইব্রেরির পরিচর্যা নেই। এরশাদ সরকারের আমলে স্কুল-কলেজ থেকে লাইব্রেরিয়ানের পদ উঠিয়ে দেয়া হয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বই না পড়ে বড় হচ্ছে। জাতি হিসেবে এটি আমাদের জন্য ভয়াবহ। দেশের সকল স্কুল-কলেজে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা ও লাইব্রেরিয়ানের পদ সৃষ্টি করতে হবে। শিশুসাহিত্যিক আলী ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চন্দ্রাবতী একাডেমির উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান কাজল, এবি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান চৌধুরী। এ সময় আলী ইমামের ‘আলোর নাচন পাতায় পাতায়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।