প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের অফুরন্ত সুযোগ

ভালো ফলাফলের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতি। গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতির চেয়ে সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের লেখার স্বাধীনতা অনেক বেশি। আগে একটা প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে হলে নাম্বার পেত, না হলে নাম্বার কাটা যেত, এখন সৃজনশীল পদ্ধতিতে ছেলে-মেয়েরা স্বাধীনভাবে উত্তর দিতে পারে এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট উত্তরের বাইরেও যদি তার লেখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে সেখানেও সে নম্বর পায়। এজন্য সৃজনশীল পদ্ধতি হওয়ায় পরীক্ষা শিক্ষার্থীবান্ধব হয়েছে, ভবিষ্যতে পরীক্ষায় ফেলের সংখ্যা তেমন থাকবে না, কারণ প্রত্যেকেই পুরো বইটা পড়তে হবে। পুরো বইটা পড়লে একজন শিক্ষার্থী কমন না পড়লেও উত্তর নিজের মতো করে দিতে পারবে। যত বেশি বিষয় সৃজনশীল হচ্ছে তত বেশি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালোফল করছে। সৃজনশীল পদ্ধতির কারণেই মূলত পাশের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভালো ফলাফলের পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে মনিটরিং। আর এ কাজটি আমরা করে থাকি শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে। আমরা শিক্ষকগণদের বোর্ডে এনে নানা বিষয়ের উপর প্রশিক্ষিত করে তুলি। এ পর্যন্ত সিলেটে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন অনেক প্রতিষ্ঠানে সৃজনশীল পদ্ধতিটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করছে, তবে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করার ক্ষেত্রে এখনো দুর্বলতা রয়ে গেছে। আর এ বিষয়টা আমরা মনিটরিং করতে পারি না জনবলের অভাবে। অনেকেই শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তবে সব ধরণের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করেছে সংখ্যাগত পরিবর্তন মানগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। পূর্বে সৃজনশীলের উপর মাত্র ৫% শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ছিল এখন প্রায় (৫০-৬০%) শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। আরেকটা বিষয় হলো আগে বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন কারণে ক্লাশ বাদ যেত বা নিয়মিত ক্লাশ হতো না। এখন তেমনটা আর দেখা যায় না। এখন সবকিছু ক্যালেন্ডার মাফিক হয়। আর শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু প্রচলিত শিক্ষার উপর জোর দিলেই হবে না। প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের অফুরন্ত সুযোগ। প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কো-কারিকুলাম কার্যক্রম নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এ ক্ষেত্রে আমার একটা প্রস্তাব হলো প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে কমিটি থাকবে যে কমিটি প্রত্যেকটি স্কুলের কো-কারিকুলাম কার্যক্রম মনিটরিং করবে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেশ করবে।। আমাদের প্রধান সমস্যা হলো আমরা শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়াচ্ছি কিন্তু সংস্কৃতিবান মানুষ তৈরি করছি না। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন হীরক খন্ড হচ্ছে শিক্ষা আর তার দ্যুতি হচ্ছে সংস্কৃতি। তাই শিক্ষার চেয়ে সংস্কৃতিটাই প্রাধান্য হওয়া উচিত কিন্তু আমরা হীরক খন্ডের সংখ্যা বাড়াচ্ছি যে হীরক খন্ড থেকে দ্যুতি ছড়াচ্ছে না। দ্যুতি ছড়ানোর জন্য সংস্কৃতি চর্চা আবশ্যক।