চট্টগ্রামে গুদাম ভোগ্যপণ্যে ঠাঁসা, বাজার ঊর্ধ্বমুখী
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৪, ২৩:০৩
গুদাম ভর্তি ভোগ্যপণ্য। তারপরও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা করছেন মজুদদার ব্যবসায়ীরা। পাইকারি বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চিনি, ছোলা, ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্য নিয়ে চলছে অস্থিরতা। প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। বিক্রেতারা জানান, ছোলা ও চিনির সরবরাহ কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য সরকারিভাবে কমিটি থাকলেও এসব নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছে। খুচরা বাজারে কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল সয়াবিন (খোলা) কেজি ১২০ টাকা, পামঅয়েল ১০৫ টাকা। এছাড়া চিনি ও ছোলার দাম ধাপে ধাপে বাড়ছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে কেজি ৪৮ টাকা আর ছোলা বিক্রি হচ্ছে মান অনুসারে কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেও ভোগ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কারণ ছাড়াই দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। রমজান মাস আসলে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর রীতিতে পরিণত হয়েছে। মানুষের চাহিদা বৃদ্ধিকে টার্গেট করে অহেতুক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। পাইকারি বাজারে যা বাড়ে তার চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায় খুচরা বাজারে। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতিবস্তা (৩৭ কেজি) ১ হাজার ৭২০ টাকা, সয়াবিন (খোলা) মণ ৪ হাজার টাকা, পামঅয়েল মণ ৩ হাজার ২০০ টাকা, পেঁয়াজ কেজি ২৫/২৬ টাকা, রসুন ৬০ টাকা, আদা কেজি ১০০ টাকা, পাইকারি বিক্রেতারা জানান, প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম কেজিতে ৪/৫ টাকা করে বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী জানান, ছোলার মূল্য বেড়েছে। প্রতিকেজি ৪৮ টাকা থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আর চিনির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েই চলেছে। পাইকারি বাজারে কেজি ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে চালের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এখন নতুন চাল এসেছে। পুরাতন চালও রয়েছে। কিন্তু দাম কমছে না। বরং পুরাতন চালের দাম কয়েক টাকা করে বেড়েছে। পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, মিনিকেট আতপ বস্তা (৫০ কেজি) ২ হাজার ৩০০ টাকা, পাইজাম ২ হাজার ৪০০ টাকা, জিরাশাইল ২ হাজার ৪০০ টাকা, দেশি বেতি ১ হাজার ৭০০ টাকা, ভারতীয় বেতি ১ হাজার ৬৫০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, এবার বোরো ফলন ভাল হয়েছে। বাজারে নতুন চালও এসেছে। কিন্তু দাম কমার পরিবর্তে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়তলী পাইকারি বাজারের আজমীর স্টোরের মালিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা। এবার তারা প্রচুর ধান গুদামে মজুদ করে রেখেছে। বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে তারা। ফলে নতুন চাল আসলেও বাজারে দাম কমছে না।’ তিনি আরো বলেন, উত্তরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে চাল আনতে প্রতি ট্রাকে ভাড়া ২৫ হাজার টাকার বেশি। রেলের ওয়াগনে করে চাল পরিবহন বন্ধ থাকায় সড়কপথে পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ যোগ করে চালের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাচ্ছে।’
বাজার মনিটরিংয়ের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে। কিন্তু এই কমিটির কোন তত্পরতা নেই। রমজান মাস আসলে ২/১টি বৈঠক করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। এই কমিটির সদস্যসচিব হচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের জেলা মার্কেটিং অফিসার। কমিটির কার্যক্রম প্রসঙ্গে সদস্যসচিব ইমাম হোসেন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘জেলা উপদেষ্টা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখনো নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। তবে রমজান মাসে পণ্যের বাজার মনিটরিং করতে বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে সমপ্রতি একটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। এতে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’