‘বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমার সৈন্য মোতায়েন করেছে’
প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৪, ২৩:০৭
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, বিনা উস্কানিতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির টহল দলের ওপর গুলি চালিয়েছে। তাছাড়া বর্ডার আইন অমান্য করে তারা সীমান্তে শক্তি বাড়িয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে তারা সীমান্তে সেনাবাহিনীর সদস্যও মোতায়েন করেছে, যা বর্ডার আইনে নেই। অবিলম্বে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান বিজিবি মহাপরিচালক।
নাইক্ষ্যাংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল শনিবার বিজিবি সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোন আক্রমণ মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। বিজিবি চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে, প্রতিবাদ জানানোর জন্য পাল্টা ব্যবস্থাও রয়েছে। তিনি বলেন, আরএসও (রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন) নামে কোন সংগঠনের অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পুশ করে। এ কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি নতুন করে ৬টি বিওপি স্থাপন করেছে। শুক্রবার বিকালে মিয়ানমারের বিজিপি (বর্ডার গার্ড অব পুলিশ) বাংলাদেশ লক্ষ্য করে মর্টার শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। বিজিবি মর্টার শেল ছুঁড়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এর আগে গত ২১ মে রেজুপাড়া বিওপিতে বিজিবি-বিজিপি ফ্ল্যাগ মিটিং চলাকালে বিজিবি’র টহল দলের ওপর বিজিপি গুলি করে। ঐ সময় তারা আশ্বাস দিয়েছিল যে বিজিপি টহল দলের ওপর গুলি ছুঁড়বে না। এ কারণে তাদের সাথে সম্পর্কের কোন উন্নয়ন ঘটেনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩ জুন বিজিবি ও বিজিপি’র মধ্যে পতাকা বৈঠক রয়েছে। ঐ বৈঠকে নিহত সদস্যের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। আগামী ১০ জুন বিজিবি-বিজিপি মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।