জিরা চাষ করে বিপাকে
মধুখালীর কৃষকরা
মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৪, ২২:২১
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই জিরার চাষ করে চাষিরা বিপাকে পড়েছে।
মধুখালীতে বেশ কিছু কৃষকের মাধ্যমে জিরা উত্পদানের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল করিম ৩৭ জন কৃষককে বীজ প্রদান করেন। চাষিরা প্রতি ১০০ গ্রাম জিরার বীজ ৫০০ টাকা করে উচ্চমূল্যে তা গ্রহণ করেন। কিন্ত এ বীজ বপনের পর তাতে যে ফসল উত্পাদন হয় সেটি জিরা না হয়ে হয়েছে শৈল বা অন্য কিছু।
উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের কৃঞ্চনগর গ্রামের অজিত বিশ্বাস জানান, স্থানীয় ভিএসএর মাধ্যমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার ৫০০ টাকায় ১০০ গ্রাম জিরার বীজ দেন। আমি ৫ শতাংশ জমিতে বীজ বপন করে তা থেকে ৩৫ কেজি ফলন পাই। এবং আমার খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা। কিন্তু উত্পাদিত জিরার ঘ্রাণ নেই। অনেকেই এটাকে শৈল বা গুয়ামুড়ি বলেছেন। কিন্তু কোনো ফসল হিসেবেই বাজারে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল করিম বলেন, জেলা শস্য উত্পাদন কর্মকর্তা মো.ওমর আলী স্যারের পরামর্শে পরীক্ষামূলক ৩৭ জন কৃষককে প্রতি ১০০ গ্রাম জিরার বীজ দিয়ে ৫০০ টাকা করে মূল্য গ্রহণ করেছি।
এ ব্যাপারে জেলা শস্য উত্পাদন কর্মকর্তা মো. ওমর আলী জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে এ জিরার কোনো বীজ উদ্ভাবন হয়নি। তবে নতুন ফসল হিসেবে তিনি জিরা চাষে কৃষকদের উত্সাহিত করার জন্য স্থানীয় সদর ইউনিয়নের একজন চাষি মো. হারুনার রশীদের উত্পাদিত ইরান ও ইন্ডিয়ান জিরার বীজ সংগ্রহ করে নতুন ফসলের উত্পাদনের লক্ষ্যে তার থেকে চাষিদের অল্প পরিমাণ জমিতে প্রতি ১০০ গ্রাম বীজ ৫০০ টাকা দরে বিতরণ করা হয় জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে। এতে চাষিদের উত্পাদিত ফসলে কিছু পরিমাণ ক্ষতি হলেও এক সময় এর থেকে জিরার ঘ্রাণ আনা সম্ভব হবে।