পার্বত্য চট্টগ্রামে আম্রপালী আম সাড়া জাগিয়েছে
প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৪, ২৩:০৮
চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে উন্নতজাতের আম্রপালী আম চাষ করে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছেন স্থানীয় আমচাষীরা। কৃষি কর্মকর্তা সাবজালউদ্দীন জানান, আম্রপালী প্রধানত ভারতীয় জাতের আম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারী আম-৩ জাত হিসেবে আম্রপালীকে অবমুক্ত করে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর ভারত থেকে ’৯৬ সালের দিকে প্রথম এই আম্রপালী আমের চারা আমদানি করে এবং কৃষক পর্যায়ে বিনামূল্যে বিতরণ করে।
আম্রপালী আমের চাষ চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মধ্যে বান্দরবান, লামা, খাগড়াছড়ি, রামগড়, কাপ্তাই, চন্দ ঘোনায় বেসরকারি উদ্যোগে আম্রপালী আমের চাষ করা হচ্ছে। মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে আম্রপালী আমের মুকুল আসে। জুন-জুূলাই মাসের দিকে ফলন আসে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল আসা শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে গাছ ছোট থাকায় গড়ে গাছ প্রতি পাঁচ থেকে ছয় কেজি আম উত্পন্ন হয়। পর্যায়ক্রমে গাছের বর্ধনের পর গাছপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ কেজি আম উত্পন্ন হয়। আম্রপালী আম উত্পাদনের জন্য চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের মাটি এবং আবহাওয়া খুবই উপযোগী। ইতিমধ্যে আম্রপালী পার্বত্য চট্টগ্রামে সাড়া জাগিয়েছে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে আমের মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ হাজার টন আম্রপালী আম উত্পন্ন হচ্ছে। এই পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপকভিত্তিতে আম্রপালী চাষ করলে দেশে আমের সংকট দূর হবে এবং বিদেশে আম রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
পার্বত্য অঞ্চলে আমচাষ সম্পর্কে আলাপ হয় ‘নিজামপুর এগ্রো প্রোডাক্টস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ কামালউদ্দীনের সাথে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের লামায় বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করে আসছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৭০০ আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রায় ১০ হাজার লোক কর্মরত আছে। ’৯৭ সাল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত আমের মধ্যে রয়েছে- আম্রপালী, মল্লিকা, রাংগুয়াই, থাই কাঁচামিঠা, থাইনামডাকমাই, ফনিয়া, থাই বানানা জাতের আম। পার্বত্য অঞ্চলে উত্পাদিত আমগুলো সংগ্রহ করে আমের মৌসুমে চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুর এলাকায় ‘কৃষক খামার’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এতে আমচাষীরা কিছুটা লাভবান হচ্ছে। ক্রেতারা এই ‘কৃষক খামার’ থেকে সুুলভে সম্পূর্ণ কেমিক্যাল মুক্ত আম ক্রয় করতে পারছেন।
পার্বত্য অঞ্চলে উন্নতজাতের আম উত্পাদনে আমচাষীদেরকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে আম উত্পাদনে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব, দুর্গম পাহাড়ে যাতায়াতের অসুবিধা, বিদ্যুত্ সমস্যা, কৃষিঋণের দুষ্প্রাপ্যতা, বাজারজাতকরণ সমস্যা, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার অভাব আম সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় উত্পাদিত আম পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমচাষীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে উন্নতজাতের আম উত্পাদনে সরকারের পক্ষ থেকে কারিগর সহযোগিতা প্রদান, স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশ আম উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।