রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফ করার ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে ওই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের অন্য অনুচ্ছেদের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক নয় এই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন বা বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’ বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবী এখলাছউদ্দিন ভুঁইয়া ও মাহবুবুল আলমের পক্ষে এডভোকেট মনজিল মোরসেদ গতকাল রবিবার এই রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ সংবিধানের ২৬, ২৭, ৩১, ৩৫, ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই অনুচ্ছেদটি বৈষম্যমূলক ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচার পাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে কারো দণ্ড মওকুফ করে দিলে মামলার বাদী সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এটা মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি বলেন, ক্ষমা বা দণ্ড কমানোর এই ক্ষমতা সংবিধানের মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট ভাগের পরিপন্থী। আর এই অংশের পরিপন্থী হলে সেই অনুচ্ছেদ অবৈধ ও বাতিলযোগ্য। সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই ভাগের বিধানাবলীর সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ সকল প্রচলিত আইন, যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এই সংবিধান প্রবর্তন হইতে সেই সকল আইনের ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।’