এই সরকারই দেশের সবকিছুতে ফরমালিন দিয়েছে :ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি কারো দয়ায় চলে না। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে এগিয়ে চলছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সব কিছুতেই ফরমালিন দিয়েছে। শুধু ফরমালিন নয়, ভয়াবহ বিষ প্রয়োগে সব ধ্বংস করা হচ্ছে। তারা রাজনীতিতে ফরমালিনের ব্যবহার ভালভাবেই করছে। ‘বিএনপির জন্ম অবৈধ’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি জন্ম লাভ করেছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। যে বিধি-বিধানে বিএনপির জন্ম হয়েছে, সে বিধি-বিধানে আওয়ামী লীগ পুনর্জন্ম লাভ করে। জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি প্রসঙ্গে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে রবিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন ফখরুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ। সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরতে বাধ্য করবে দেশের জনগণ। ফখরুল বলেন, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান হবে। কিন্তু তারা সেই নির্বাচনে গিয়েছিল। জাতীয় পার্টি-জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন করেছেন। ২০০৭ সালে মইন-ফখরুদ্দিন সরকারকে বলেছিলেন আন্দোলনের ফসল। তাদের বৈধতা দেয়ার কথাও বলেছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে দিয়েছেনও। তিনি বলেন, প্রকৃত পক্ষে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাই গায়ের জোরে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাচ্ছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। তাহলে বোঝা যাবে কারা বৈধ আর কারা অবৈধভাবে রাজনীতিতে এসেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করেছে। র্যাবকে আওয়ামী লীগ গুপ্ত ঘাতকে পরিণত করেছে। যেহেতু র্যাব জীবন রক্ষার পরিবর্তে জীবন হরণকারী হিসেবে পরিণত হয়েছে, তাই র্যাবের বিলুপ্তি এখন সময়ের দাবি।