সওজের জায়গায় বাজার দোকানপাট, চাঁদাবাজি

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বাজার ও দোকানপাট। হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে রাস্তার উপর বসেছে কাঁচাবাজার। কাঁচাবাজারগুলো সম্প্রসারিত হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচলসহ পথচারীদের যাতায়াতে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাজার বসিয়ে একটি চক্র প্রতিদিন বাজার থেকে আদায় করছে লাখ লাখ টাকা। এ টাকার ভাগ পাচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন, পুলিশ ও সাংবাদিক নামধারী কতিপয় লোক। যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত তিন মাসে একাধিকবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পরিদর্শনে এসে মহাসড়কের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধভাবে চাঁদা আদায়কারী চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নিদের্শ দেন; কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন মন্ত্রীর নিদের্শ উপেক্ষা করছে। তারা সরকারি রাস্তার উপর নির্মিত বিভিন্ন বাজার উচ্ছেদ করেনি। এমনকি হেমায়েতপুর কাঁচাবাজার থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়কারী ব্যক্তিটিকেও গ্রেফতার করেনি। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত ব্যক্তি হেমায়েতপুর কাঁচাবাজার থেকে প্রতিদিন দোকান প্রতি চাঁদা আদায় করে। এই চিত্র শুধু হেমায়েতপুর কাঁচা বাজারেই নয়। সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে সাভার পৌর এলাকার উলাইল বাসস্ট্যান্ড, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গড়ে উঠেছে মার্কেট ও কাঁচাবাজার। চাঁদাবাজরা আবার কাঁচাবাজারের আড়ালে টিনের ঘর তুলে স্থায়ী দোকান তৈরি করে এককালীন জামানতও আদায় করেছে। উলাইল বাসস্ট্যান্ডে রয়েছে অর্ধশত দোকান। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কয়েকজন তরুণ এসে দোকান প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে। উল্লেখ্য, গত দুইমাস পূর্বে যোগাযোগ মন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গায় গড়ে ওঠা বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তা আবার চালু হয়েছে। সাভার গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে সওজের প্রায় ১ বিঘা জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে বিশাল কাঁচাবাজার। এ বাজারে কমপক্ষে দেড় শতাধিক দোকান বসেছে। এর মধ্যে অর্ধশত দোকান থেকে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জামানত নেয়া হয়েছে। আর প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন এ বাজারে কাঁচামাল উঠানো-নামানোর ফলে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া পৌরসভা অফিসে ঢুকতেই রাস্তার দুই পাশেই কাঁচাবাজার বসে। এদিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লার রাস্তার উপরে কাঁচাবাজার বসলেও উচ্ছেদে পৌরসভার তেমন কোন উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন পৌরবাসী। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, একাধিকবার অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান-পাট ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পুনরায় তা গড়ে ওঠে। উপজেলার প্রশাসনের পক্ষে সার্বক্ষণিক তদারকি করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে- এমন কোন স্থাপনা থাকবে না। অচিরেই অভিযান চালানো হবে। একই সাথে সওজ-এর জায়গায় গড়ে ওঠা বাজার থেকে চাঁদা আদায়কারীদেরও গ্রেফতার করা হবে। সাভার পৌরসভার মেয়র মো. রেফাতউল্লাহ বলেন, পৌরসভার নিজস্ব কোন ম্যাজিস্ট্রেট নেই। ফলে যখন তখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। আগামী আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।