বিশ্বে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়

বিশ্বে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২০১৫ সাল। সেই হিসাবে সময়সীমা আছে আর মাত্র ২ বছর। তবে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জন ব্যাপক ব্যবধানে ব্যর্থ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা ২০১১ সালে সারাবিশ্বে ৫ কোটি ৭০ লাখ শিশু স্কুলের বাইরে ছিল। যাদের অর্ধেকের বেশি বাস করে সংঘাতময় দেশসমূহে। সবার জন্য শিক্ষা গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৩-১৪-এ এমনটাই বলা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুর অর্ধেকের বাস সংঘাতময় দেশগুলোতে। ২০০৮ সালে এটা ছিল ৪২ শতাংশ। সংঘাতময় দেশসমূহের ২৮.৫ মিলিয়ন বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুর ৯৫ শতাংশই বাস করে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যআয়ের দেশসমূহে। এদের ৫৫ শতাংশই মেয়ে শিশু যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া ৯০টি দেশের মাত্র ১৩টি দেশে ২০১৫ সালের মধ্যে ৯৭ শতাংশ শিশু প্রাথমিক শিক্ষার সমাপনী উত্তীর্ণ হতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার মধ্যে ১০টি দেশ ওইসিডি অথবা ইইউ দেশভুক্ত। রবিবার বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) ভবনে ‘সবার জন্য শিক্ষা গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৩-১৪’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল ইউনেস্কো, সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রিপোর্টে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে স্কুলে ভর্তির হার ৯৯.৪৭ শতাংশ। বিশ্বে বয়স্ক অশিক্ষার সংখ্যা ৭৭৪ মিলিয়ন। বাংলাদেশে বয়স্ক শিক্ষার হার ৫১.৩ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে জেন্ডার প্যারিটি হার যথাক্রমে ৭০ ও ৫৬ শতাংশ। বাংলাদেশে ২০১২ সালের আগেই সেটা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের মধ্যে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১.৬ মিলিয়ন নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য সরকারসমূহকে উদ্যোগ নিতে হবে। এতে উত্তম শিক্ষক সরবরাহের চারটি কৌশল চিহূিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- শিশুদের ভিন্নতাকে মেনে নিয়ে শিখন নিশ্চিত করা। শিক্ষকদের অবশ্যই প্রশিক্ষণ দেয়া যেন তারা প্রারম্ভিক শ্রেণি থেকেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে পারে। দেশের সবচেয়ে সমস্যাসংকুল এলাকায় সবচেয়ে ভালো শিক্ষক দেয়া এবং শিক্ষকদের সঠিক প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। তবে শিক্ষার মানোন্নয়নকে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য অনেক কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে, শিশুমৃত্যুর হার কমছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমছে, মাথাপিছু আয় বাড়ছে। মুখবন্ধে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরনা বোকোভা বলেছেন, ৫৭ মিলিয়ন শিশু এখনো কিছু শিখতে পারছে না, কারণ তারা স্কুলে যায় না। অভিগম্যতাই একমাত্র সংকট নয়; যারা স্কুলে যাচ্ছে নিম্নমানের শিক্ষা তাদের শিখনে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। স্কুলে যাক বা না যাক, প্রাথমিক শিক্ষা বয়সী শিশুদের এক-তৃতীয়াংশ শিখনের মৌলিক বিষয়সমূহ শিখছে না। এই রিপোর্ট দারিদ্র্য, জেন্ডার, অবস্থানগত অথবা অন্যান্য কারণে বঞ্চনার শিকার শিশুদের শিখনের জন্য প্রচেষ্টাকে দ্বিগুণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউয়ের মহাসচিব ড. মোহাম্মদ সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার হোসেন, ইউনেস্কো অফিসার ইনচার্জ কিচি ওয়াসু, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন সচিব মো. মনজুর হোসেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রাথ, সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রকল্প পরিচালক তালাত মাহমুদ প্রমুখ।