রোজায় মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আগাম ব্যবস্থা
প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৪, ২৩:১৫
জুনেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। তবে তার আগেই একশ্রেণীর ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ফলে শংকিত স্বল্প আয়ের মানুষ। অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যৌক্তিক কোন কারণ ছাড়াই নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। ইতিমধ্যে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে এবং পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রমজানের আগেই মাঠে নামছে একাধিক টিম। সেইসাথে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) আগামী ৮ জুন থেকে সারাদেশে খোলাবাজারে নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রমজান উপলক্ষে খাদ্য আমদানিও বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পরিশোধিত ভোজ্য তেল আমদানি করা হয়েছে। যা গত বছর একই সময়ে ছিল ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ লাখ ডলার। বেড়েছে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানির পরিমাণও। চলতি বছর এপ্রিলে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ কোটি ২২ লাখ ডলারের। গত বছর তা ছিল ৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এছাড়া বেড়েছে শুষ্ক খাদ্য আমদানির পরিমাণও । গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় এ বছর শুষ্ক খাদ্যের আমদানির পরিমাণ ১১ লাখ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারে। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের ডালের আমদানিও বেড়েছে। ফলে পণ্য সংকটের কোন কারণ নেই।
এদিকে রমজানে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যে রাখতে আগামী ৮ জুন থেকে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেঁজুর। সারাদেশে তিন হাজার ১৮ জন ডিলারের মাধমে এই পণ্য বিক্রি করা হবে। এছাড়া ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পাঁচটি এবং প্রতি জেলা সদরে দু’টি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ট্রাকে দৈনিক ১ হাজার কেজি চিনি, ২শ’ লিটার সয়াবিন তেল, ২শ’ কেজি করে ছোলা ও মসুর ডাল বিক্রি করা হবে।
রাজধানীর ২৫টি পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে যাত্রাবাড়ি বাজার, শান্তিনগর বাজার, প্রেসক্লাব, পলাশী বাজার, মালিবাগ বাজার, ভাষানটেক বাজার, নিউমার্কেট, কাপ্তান বাজার, মিরপুর-১, আগারগাঁ-তালতলা বাজার, বাসাবো বাজার, মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজার, নাখালপাড়া বাজার, ফকিরাপুল বাজার, রায়েরবাজার, জুরাইন বাজার, শেওড়াপাড়া বাজার, কচুক্ষেত বাজার, উত্তরা কাঁচাবাজার, মিরপুর-১০ গোলচক্কর, সচিবালয় গেইট, মগবাজার, শাহজাহানপুর বাজার, এজিবি কলোনি বাজার ও মতিঝিল শাপলা চত্বর।
এ প্রসঙ্গে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি করতে টিসিবির প্রস্তুতি সম্পন্ন। চিনি, তেল, মসুর ডাল ও ছোলার যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। এছাড়া আবুধাবি থেকে ১শ’ ৫০ টন খেজুর আমদানি করা হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১২ জুনের মধ্যে খেজুর চলে আসবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় দুই বছরের পুরনো মসুর ডাল ও চিনি রমজানে বিক্রি করবে টিসিবি। এ প্রসঙ্গে টিসিবি’র ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, মানুষ রোজা রেখে একটু ভালো মানের খাবার খেতে চায়। টিসিবি পণ্যের গুণগত মান খারাপ হলে আমরা বিক্রি করবো না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পণ্যের বিক্রয় মূল্য এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করছি, সরকার বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যগুলোর দাম নির্ধারণ করবে।