সালাম সালেহ উদদীন
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৪, ১৯:১৪
অনেকের মতো কেবল ছড়া-কবিতা দিয়ে আমি লেখালেখি শুরু করিনি। লিখেছি উপন্যাস। স্কুলজীবনেই তিনটি উপন্যাস লেখা রীতিমতো দুঃসাহসিক ও হাস্যকর কাজ। তারপরেও আমি সেটা করেছি, নিতান্ত প্রাণের তাগিদে, সাহিত্যের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক ও ভালোবাসা থাকার কারণেই। আমার স্বপ্ন ছিলো লেখক হবো। আমরা হাবিলউদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ে যখন পড়ি, (ঢাকার দোহার উপজেলায়) তখন আমাদের ব্যাচকে শিক্ষকরা গোল্ডেন ব্যাচ বলতেন। কারণ এই ব্যাচে দশ থেকে বারোজন মেধাবী ছাত্র ছিলো। আমি, আক্তার, নূরুল ইসলাম, সেলিম, লুত্ফর, বাবুলসহ বেশ কয়েকজন ছিলো ভাল ছাত্র। মেয়েদের মধ্যে ঠিক ওই পর্যায়ে কেউ মেধাবী ছিলো না। স্কুলে সব ক্লাসেই আমি প্রথম হতাম।
প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেনের সহযোগিতায় ও অনুপ্রেরণায় আমরা স্কুলে একটি লাইব্রেরিও গড়ে তুলি। জালাল স্যার আর ওহাব স্যার ঢাকায় এসে বই কিনে নিয়ে যান। আমি লাইব্রেরি থেকে বিভিন্ন লেখকের বই নিয়ে পড়তে শুরু করি। বিশেষ করে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, শরত্চন্দ্র, জহির রায়হান, আবুল ফজল, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান এবং সৈয়দ শামসুল হকের লেখার সঙ্গে পরিচিত হই। আমিও তাদের মতো লিখতে পারবো কিনা সে দুঃসাহস ও ভাবনা আমার মধ্যে কাজ করে।
পরবর্তীকালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়ে কবিতা, ছড়া লিখি। যা দৈনিক বাংলা, নবঅভিযান, আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর আবার কথা-সাহিত্যে ফিরে আসি। প্রথম গল্প লিখি ১৯৮৩ সালে ‘তোপদাগা ছাপ’ যা সূর্যসবুজ নামের একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর নিয়মিত গল্প লিখতে থাকি। এ পর্যন্ত ১০০ গল্প লিখেছি। উপন্যাস লিখেছি ১০টি। সবমিলিয়ে বইয়ের সংখ্যা ৩৬টি। এর পাশাপাশি সম্পাদনার কাজও করেছি। অরুণিমা, অরুন্ধতী ও শেষ দশক নামে সাহিত্য কাগজ সম্পাদনা করেছি। উল্লেখ্য, আশির দশকের শেষের দিকে হুমায়ুন আজাদের বিতর্কিত প্রবচনগুচ্ছ আমার সম্পাদনাতেই অরুণিমার দ্বিতীয় সংখ্যায় প্রথম প্রকাশ পায়।
কৈশরে জীবনে ছড়া-কবিতা লিখলেও বই আকারে তা প্রকাশিত হয়নি। প্রকাশিত হয়নি উপন্যাস তিনটিও। আমার শিশুতোষ বই মাত্র একটি। সেটি হচ্ছে, গল্পের বই ‘তোমরা পড়ো মজার গল্প’, এরপরও শিশুদের জন্য গল্প লিখেছি । যা ‘রাজকুমারী প্রিয়তি’ নামে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
আজকের শিশুই আগামীদিনের ভবিষ্যত্। প্রথম থেকেই শিশুদের বইমুখী করানো উচিত। নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে উঠলে এবং বইয়ের প্রতি মনোযোগী হলে, ওই শিশুর বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। এক্ষেত্রে পরিবারের অভিভাবকদের মনোযোগী হওয়া উচিত।