ইনজিনিয়ারিং ইউনিভারসিটি স্কুল
সালেহীন আলী শান্ত, নবম শ্রেণি
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৪, ১৯:১৫
আমার প্রিয় বিদ্যালয়ের নাম ইনজিনিয়ারিং ইউনিভারসিটি স্কুল এন্ড কলেজ। এটি ১৯৮২ সালে ইনজিনিয়ারিং ইউনিভারসিটি স্কুল নামে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর শিক্ষাদানের গুণগত মান উন্নত ফলাফরের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৮ সালে আমাদের বিদ্যালয়টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। এটি রাজধানী ঢাকার পলাশী এলাকায় অবস্থিত। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’ ভাস্কর্য চত্বর এবং পূর্বপাশে কেন্দ্রীয় ‘শহীদ মিনার’ অবস্থিত। বিদ্যালয়ের পূর্বপাশে কেন্দ্রীয় ‘শহীদ মিনার’ অবস্থিত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শান্ত ও স্নিগ্ধ বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়ায় ঘেরা নয়নাভিরাম পরিবেশে আমাদের বিদ্যালয়টির অবস্থান। আমাদের বিদ্যালয়ে একটি সুবিশাল লাইব্রেরিসহ ২টি সুবিশাল ও সুপরিসর সুরম্য ভবনে আমাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমাদের প্রতিদিনের প্রাতঃসমাবেশ অনুষ্ঠানের জন্য একটি সবুজ বেষ্টনি রয়েছে। প্রতিদিন ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রারম্ভিক সমাবেশের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে দৈনিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে, টিফিন বিরতির সময় সবুজ বেষ্টনিতে ছাত্রছাত্রীদের কল-কাকলিতে বিদ্যালয়ের চিরসবুজ প্রাণচাঞ্চল্যকে মুখরিত করে তোলে, সুদীর্ঘ ৩২ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলতার সাথে শিক্ষা প্রদান করে আসছে। স্কুল ও কলেজ শাখায় প্রায় ১২০০শ’ ছাত্রছাত্রীসহ ৪৫জন অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। অফিস সহকারী ৪ জন ছাড়া ১১ জন কর্মচারী নিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা আমাদের অত্যন্ত আদর-স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন। আমাদের বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের নাম মো.শামসুল হক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু বকর সিদ্দিকী। তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ। আমাদের বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান গবেষণাগার ও কম্পিউটার গবেষণাগার, লাইব্রেরী, কমনরুম, অভিভাবকদের বসার রুম ও একটি ক্যান্টিন আছে। আমাদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, শিক্ষাসফর, বনভোজন ও বিজ্ঞান মেলা প্রতিবছর হয়। এখানে প্রতিবছর ‘উত্তরণ’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। সেই ম্যাগাজিন প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানে কয়েকজন চৌকস স্কাউট রয়েছে। সিনিয়র শারীরিক শিক্ষক মীর মাহবুব আলীর তত্ত্বাবধানে স্কাউট নিরলস ও নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমি নিজেও স্কাউটের সদস্য। এখানকার গভর্নিং বোর্ডের সদস্যরা অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। এই প্রতিষ্ঠানে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। সকল পরীক্ষাতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করে। এত বড় ও সুন্দর বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি নিজেকে অনেক গর্বিত মনে করি। তাই আমি বলতে পারি আমার বিদ্যালয় আমার গর্ব।