রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এক প্রাণের জন্য...

বৈশাখের শেষ। জ্যৈষ্ঠের শুরু। তপ্ত বিকেল। তখনও সূর্যের তেজ কমেনি। প্রচন্ড তাপদাহ। তারপরও হাজারো তরুণ-তরুণী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে ছুটে আসেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর আনিসুজ্জামানের জীবন বাঁচাতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘কনসার্ট ফর লাইফ’। ক্যাম্পাস মাতালেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। দীর্ঘদিন ধরে দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা প্রফেসর আনিসুজ্জামানের চিকিত্সার সহায়তায় এ কনসার্টের আয়োজন। কনসার্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু হলেও এর কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শুরুতে কনসার্টে আগতদের স্বাগত জানান পিআইবির সাবেক মহাপরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর দুলাল চন্দ বিশ্বাষ। এর অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ছাত্রী বৃষ্টি রহমান। তিনি একে একে মঞ্চে ডাকেন খ্যাতিনাম শিল্পীদের। প্রথমে গান পরিবেশন করেন জাকিয়া সুলতানা কর্ণিয়া এবং রাজশাহীর স্থানীয় ‘আরশি ব্যান্ড’। গৌধুলী বিকেল পেরিয়েছে। তবুও দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর উল্লাসের কোন কমতি নেই। অপেক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্য। মঞ্চের রঙ-বেরঙের আলোর মধ্যে সন্ধ্যায় চলে আসেন দেশবরেণ্য এই শিল্পী। গান গেয়ে মাতালেন দর্শকদের। সঙ্গে যোগ হয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পী নদী। এরপর আসেন কণ্ঠশিল্পী এস আই টুটুল। তার গানের সঙ্গে সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে আর নাচতে শুরু করেন মঞ্চের সামনে বসা তরুণীরা। পেছনের তরুণ দর্শকরাও কম নাচেননি। দর্শকদের গানে মুগ্ধ করে মঞ্চত্যাগ করেন এই শিল্পী। সোলস্ ব্যান্ডের পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের শিল্পীরাও গানে গানে ভরিয়ে দিলেন দশর্ক-শ্রোতাদের মন। শিল্পীরা গানে গানে দর্শক-শ্রোতাদের মাতালেও কনসার্ট যেন পূর্ণতা পায়নি। দর্শক-শ্রোতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন কনসার্টের শেষ আকর্ষণ মিলার জন্য। অবশেষে আসলেন মিলা। অল্প সময়ে শ্রোতা-দর্শকদের ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন আনন্দের সাগরে। মিলার ‘বাপুরাম সাপুড়ে, রুপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া’ গানে দর্শকদের কোমর দুলিয়ে দিলেন। তরুণ-তরুণীরা মিলার গানের তালে তালে নেচে স্টেডিয়ামের উতলা করে তুললেন। ‘দোল দে দোলা দে দেলা দে রে পাগলা দেলা দে রে’ এই গান গেয়ে আরেক বার দোলা দিয়ে মঞ্চ ছাড়েন মিলা। কনসার্টের পুরোটা সময় হাজারো তরুণ-তরুণী আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠলেও একটু হলেও তাদের মন ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল যার চিকিত্সার সাহাযার্থে আয়োজন করা হয় কনসার্টি তার জন্যে। সেই প্রফেসর আনিসুজ্জামানের রোগ মুক্তির জন্যে দোয়া করেছেন সবাই।