চট্টগ্রাম কলেজের গণিত বিভাগ
হাসি-কান্নার
ফেয়ারওয়েল
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৪, ১৯:২০
পাঁচ বছরের অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স শেষ হতে প্রত্যেকেরই আট বছর লেগে যাচ্ছে। সরকারি চাকরির বয়স চলে যাচ্ছে। জীবন থেকে হারিয়ে গেছে অতিরিক্ত তিনটি বছর। তবুও এদিন তাদের মুখে উচ্ছ্বাস। আনন্দের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার। মেয়েরা পরে এসেছে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের শাড়ি আর ছেলেদের গায়ে শার্টপ্যান্ট অথবা পাঞ্জাবি। চট্টগ্রাম কলেজের গণিত বিভাগের বিদায় অনুষ্ঠান ফেয়ারওয়েলকে স্মরণীয় রাখতে তাদের এমন সাজসাজ রব। সকাল এগারোটায় গণিত বিভাগ থেকে বের হওয়া র্যালি পুরো কলেজ প্রদক্ষিণ করে আবার বিভাগে ফিরে আসে। ১২ টায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম কলেজ গণিত বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউসুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণিত বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সুভাষ চন্দ্র চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন গণিত বিভাগের বর্তমান বিভাগীয় প্রধান দিলীপ কুমার নাথ। এছাড়া বিভাগের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষকমন্ডলী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অতিথি, শিক্ষকমন্ডলী, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীরাও অনুভূতি প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে বিদায়ী ব্যাচের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম প্রজেক্টরে ডকুমেন্টারি হিসেবে দেখানো হয়। দুপুরের লাঞ্চের পরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র হুমায়ূন আহমেদের ‘যদি মন কাঁদে চলে আসো’ গানটি দিয়ে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। গানটি পরিবেশন করেন তামান্না হাবিব। একজন গায় আর বাকি সবাই তাল মিলিয়ে গানে গানে মুখর করে তুলে মিলনায়তন। হাসি, আনন্দ আর প্রাণের বিচ্ছূরণে ঘড়ির কাঁটা সাড়ে ছয়টায় এসে পৌঁছায়। তখন আসর ভাঙ্গে। সবার মনে বিষাদের সুর। এদিন যে আর পাওয়া যাবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁতাকলে পাঁচ বছরের কোর্স আট বছর শেষ হচ্ছে। তবুও তো সময়গুলো সৃষ্টি করেছে একেকটি প্রাণের বন্ধন।