মুজিব হত্যায় জিয়া নয়, আওয়ামী লীগ জড়িত :ফখরুল
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৪, ২২:৫৮
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করবেন না। শেখ মুজিব হত্যায় জিয়াউর রহমানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এই হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের নেতারা সরাসরি জড়িত। খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মোশতাকের মন্ত্রিপরিষদে আওয়ামী লীগের নেতারাই যোগ দিয়েছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান ও শামসুজ্জামান দুদুসহ দলীয় অন্য নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
‘জিয়া বেঁচে থাকলে তাকেও বঙ্গবন্ধু হত্যার আসামি করা হতো’— সোমবার প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, খন্দকার মোস্তাক জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যার ব্যাপারে তার জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে। তাহলে শেখ মুজিবকে হত্যার দিন সেনা প্রধান ছিলেন কে এম সফিউল্লাহ, বিমান বাহিনীর প্রধান ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার। পরে সফিউল্লাহকে সংসদ সদস্য ও একে খন্দকারকে মন্ত্রী বানানো হয়েছে। ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে আসেন, আর ৩০ মে জিয়া মারা যান। এ বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে জিয়া হত্যার সামগ্রিক তদন্ত করা হবে। বর্তমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, কাঁচের ঘরে বাস করে অন্যের দিকে ঢিল ছুঁড়বেন না। যতই ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করুন না কেন তাতে লাভ হবে না। কারণ জিয়া এদেশের মানুষের হূদয়ের অনেক গভীরে গ্রোথিত।
ফখরুল বলেন, এরশাদ জিয়া হত্যার বেনিফিশিয়ারি। তিনি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছেন। তিনি এখন আবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তিনি বলেন, দেশে ‘কারফিউ’ চলছে। কোনো মানুষই আজ নিরাপদ নয়। সরকার যখন সুশাসনে ব্যর্থ, সরকারের অপকর্মে যখন জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে; তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য সামনে নিয়ে এসেছেন।