সেই ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালানের গন্তব্য ছিল সিলেট

চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র চালানের গন্তব্য ছিল সিলেটের সীমান্ত এলাকায়। গোয়েন্দাদের ধারণা, সিলেটের হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সীমান্ত এলাকার বনের গহীনে কোনস্থানে মজুদ করার টার্গেট ছিল। পরবর্তীতে ওখান থেকে এসব অস্ত্র সীমান্ত পাড় হয়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছিল চালানকারীরা। এ উদ্দেশ্যে সিলেটে যাওয়ার কথা বলে ওই ১০ ট্রাক ভাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) সংলগ্ন ঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রের চালান খালাসের সময় আটক করা হয়। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তথ্য দিয়েছেন। গতকাল বুধবার র্যাব হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের টিলার বাংকার থেকে উদ্ধার করে বিপুল পরিমাণ গোলা বারুদ। ডেথ রেফারেন্সে শুনানির অপেক্ষায় মামলায় মৃত্যুদণ্ড আসামিদের আপিল আবেদন ডেথ রেফারেন্সে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। শুনানি হতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে আদালত সংশ্লি¬ষ্টরা জানিয়েছেন। গত ৩০ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। নিয়মমাফিক রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ আসামির মধ্যে উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়া ও সাবেক শিল্প সচিব নূরুল আমিন ছাড়া অন্যদের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। পরেশ বড়ুয়া ও নূরুল আমিন পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে আপিল করার সুযোগ ছিল না। বর্তমানে ১২ জনকে ঢাকা, কাশিমপুর, কুমিল্ল¬া ও চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফা’র সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়ুয়া এবং ডিজিএফআই, এনএসআই’র দুই সাবেক প্রধানসহ ১৪ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও আসামিদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করে আদালত। দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি (১) (বি) ধারায় চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের আদালত এ রায় প্রদান করেন। একই আদালত দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের ১৯ এ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। একই মামলায় আসামিদের প্রত্যেককে ১৯ সি ও ১৯ এফ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় উভয় মামলার ৩৬ আসামিকে আদালত বেকসুর খালাস দেয়।