ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষে আগ্রহ বাড়ছে
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৪, ২৩:০৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে আম চাষ। মৌসুমী আমসহ পেয়ারা, ডালিম, কলা ইত্যাদিতে ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে বিষ মুক্ত ফল পাওয়া যায়। এ পদ্ধতিতে আম চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বালাইনাশকের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আমসহ এইসব ফল বিষমুক্ত পাওয়া যায় না। ফলে ভোক্তারা শারীরিকভাবে ক্ষতিকারক কীটনাশক মেশানো ফল খাচ্ছেন। অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার করায় জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকিতে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সরফ উদ্দিন, হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ জহুরুল ইসলাম জানান, বিষমুক্ত আমসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করতে হলে বিশেষ ধরনের ব্যাগ দ্বারা এই ফলগুলোকে আবৃত করে রাখতে হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে পরপোকারী পোকামাকড় যেমন মানুষের উপকারে আসবে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ক্ষতির সম্মুখিন হবে না। ব্যাগিং পদ্ধতিতে বিষমুক্ত ফল পাওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফলের রংও ভাল হয়। গুটি আসার ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনবোধে কীটনাশক বালাইনাশক স্প্রে করার পর গা থেকে পানি শুকিয়ে গেলে এবং পোকামাকড় সরে গেলে এই পদ্ধতি ব্যবহার উপযোগী। বিষমুক্ত ও গুণগত মান সম্পন্ন ফল উত্পাদনের জন্য ফ্রুট ব্যাগিং সম্ভাবনাময় ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এই ব্যাগগুলোর বৈশিষ্ট পানিতে ভিজে নষ্ট হয় না, ঝড়ে উড়ে বা ছিঁড়ে যায় না। পরীক্ষামূলকভাবে চললেও চাইনিজ পদ্ধতির এই ব্যাগটি ব্যবহারে আম চাষীদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। এই পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র ও হর্টিকালচার সেন্টার।