জলবায়ু পরিবর্তনে ঢাকার পরিবেশগত সমস্যা আরো বাড়বে

উন্নত বিশ্বের বিলাসী জীবনযাত্রার ফলে জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন, বিশ্বময় উষ্ণতা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ঢাকা মহানগরীর পরিবেশগত সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘জলবায়ু পরিবর্তন: ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় গতকাল মঙ্গলবার তারা এই আশংকার কথা জানান। তারা বলেন, ঢাকা পৃথিবীর দ্রুত বেড়ে ওঠা শহরগুলোর অন্যতম। নানা সংকটে এ মহানগর বর্তমানে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। বাসস্থান, যাতায়াত, বিনোদন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশসহ মৌলিক ও প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), আইইডি ও জনউদ্যোগের যৌথ আয়োজনে পবা কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, ১৯৬০ সালে ঢাকায় জলাশয় ও নিম্নাঞ্চলের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৯৫২ ও ১৩৫২৮ হেক্টর, ১৯৮৮ সালে যথাক্রমে ২১০৪ ও ১২৭১৮ হেক্টর এবং ২০০৮ সালে যথাক্রমে ১৯৯১ ও ৬৪১৫ হেক্টর। ১৯৬০ সাল হতে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল যথাক্রমে ৩২.৫০% ও ৫২.৫০% হ্রাস পেয়েছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন হাউজিং কোম্পানিগুলো নিম্নাঞ্চল ভরাট করছে। একই ভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিম্নাঞ্চল ভরাট করছে। জলাশয় ও নিম্নাঞ্চল ভরাট ও দখলের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরবাসী প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধার শিকার হচ্ছে। পরিবেশবিদরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলন করে রাজধানীবাসীর পানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। এ কারণেও ঢাকা শহর ক্রমশ দেবে যাচ্ছে। অধিক হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণেই ভূগর্ভে পানির শূন্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহানগরীতে যেখানে ১৯৭০ সালে ৪৯টি গভীর নলকূপ ছিল, বর্তমানে তা ৬৬০টি। মাত্রাতিরিক্ত হারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানি সমুদ্রের গড় উচ্চতা থেকে ১৫০-১৭০ ফুট নিচে অবস্থান করছে। ৭০’র দশকের প্রথম দিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৩০ থেকে ৪০ ফুটের মধ্যে। ২০০৪ সাল পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে পানি উত্তোলনের ফলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হতো তা বর্ষা মৌসুমে ভরে যেতো। বর্তমানে এ স্তর রয়েছে ২০০ থেকে ২২০ ফুট নিচে। প্রতি বছর গড়ে ৪ ফুট হারে পানির স্তর নিচে নামছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে প্রতি বছর পানির স্তর ১০ ফুট করে নিচে নামছে। ভূগর্ভে লবণ পানির অনুপ্রবেশ চলতে থাকলে ২০ থেকে ৩০ বছর পর মিঠা পানির অভাবে ঢাকায় জনশূন্যের পাশাপাশি ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। আলোচনা সভায় সুপারিশ জানিয়ে বলা হয়, নদী নিয়মিত খনন করা, অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা, আঞ্চলিক নদীগুলোর পানি প্রাপ্তির লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী, আইইডির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জ্যোতি প্রকাশ চট্টোপাধ্যায়, তারিক হোসেন মিঠুল, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসনাত, মো. মাহবুল হক প্রমুখ।