আবারও পর্দা কাঁপাতে
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৪, ২০:১৭
অ্যাডাম স্যান্ডলার ও ড্রিউ ব্যারিমোরের সেই রোমান্টিক জুটির কথা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে—বিখ্যাত সিনেমা ‘ফিফটি ফার্স্ট ডেট’-এ অভিনয় করে দুনিয়া কাঁপিয়েছিলেন তারা। সম্প্রতি আরও একবার পর্দায় হাজির হলেন রোমান্টিক এ জুটি। এ নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
কিছুদিন আগেই খবর পাওয়া গেল, দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী ড্রিউ ব্যারিমোর। আর মা হওয়ার তিন সপ্তাহ পর আবারও নিজের নতুন ছবি ‘ব্লেনডেড’-এর প্রচারণার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। মা হওয়ার পর অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত ব্যারিমোর। নতুন ছবি প্রসঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী বলেন, ‘ব্লেনডেড’ ছবিটি আমার পছন্দের এবং তাই এর প্রচারণায় অংশ নিয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করছি। আমার সন্তানেরা ভালো আছে। নিজেকে অনেক বেশি ভাগ্যবতী অনুভব করছি।’ ব্লেনডেড সিনেমাটিতে তিনি মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যেখানে তার দুটি ছেলে রয়েছে। অপরদিকে অ্যাডাম স্যান্ডলারের থাকে তিনটি মেয়ে। এই কটা চরিত্র নিয়েই সিনেমাটির গল্প। বাবা ছাড়া দুই ছেলের দায়িত্ব নেন তার মা। নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে সন্তান মানুষ করার কাজটি করতে হয় তার। অপরদিকে অ্যাডাম স্যান্ডলারেরও একই অবস্থা। তিন মেয়েকে নিয়ে বিপদে আছেন তিনি। মা ছাড়া একা বাবা সব কিছু করতে পারেন না। ছেলে-মেয়েরাও সুখী না। ছেলে-মেয়েদের জন্য দুজনেই প্ল্যান করে তারা আফ্রিকাতে যাবেন। সেখানে যাওয়ার পর কিছুটা নাটকীয়ভাবেই তাদের দেখা হয়। প্রথমদিকে একে অপরকে অপছন্দ করলেও ধীরে ধীরে দুই পরিবারই এক হয়ে যায়। আর এর মাঝেই নানা ধরনের মজার ঘটনার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে সিনেমার গল্প। হলিউড অভিনেত্রী ড্রিউ ব্যারিমোর তার সহঅভিনেতা অ্যাডম স্ল্যান্ডলারকে বাস্তব জীবনেও অনেক বেশি পছন্দ করেন। কমেডিয়ান এ অভিনেতার সঙ্গে তিন তিনটি চলচ্চিত্রে জুটিবদ্ধ হওয়ার পর আরও চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চান ৩৯ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। কারণ স্ল্যান্ডলারের সঙ্গে অভিনয়ে অনেক বেশি আনন্দ উপভোগ করেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ‘দ্য ওয়েডিং সিংগার’, ২০০৪ সালে ‘ফিফটি ফাস্ট ডেটস’ চলচ্চিত্রে জুটিবদ্ধ হতে দেখা যায় ব্যারিমোর ও স্ল্যান্ডলারকে। সম্প্রতি ‘ব্লেনডেড’ চলচ্চিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করতে করতে অ্যাডামের বড় ভক্ত হয়ে গেছেন ব্যারিমোর। তাই অ্যাডামের সঙ্গে আরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন তিনি। একজন মার্কিন অভিনেত্রী এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক। তিনি ব্যারিমোর পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান অভিনেত্রী। তার অভিনয়জীবন শুরু হয় যখন তার বয়স মাত্র এগারো মাস। ব্যারিমোরের পর্দায় অভিষেক ঘটে ১৯৮০ সালে, ‘অলটার্ড স্টেটস’-এর মাধ্যমে। ১৯৮০ সালে ‘অলটার্ড স্টেটস’-এ অভিষেকের পথ ধরে তিনি আবির্ভূত হন তার সাড়াজাগানো চরিত্র ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল’-তে। এর মাধ্যমে অল্প সময়েই তিনি হলিউডে সবচেয়ে পরিচিত শিশু অভিনেত্রী রূপে আবির্ভূত হন, এবং নিজেকে প্রধানত বিভিন্ন কমিক চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রী রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকেন। ব্যারিমোর ১৯৯০ সালে নিজের আত্মজীবনী লেখেন, যার নাম ছিল ‘লিটল গার্ল লস্ট’। ব্যবসায়িকভাবে অসফল কিছু চলচ্চিত্র, যেমন—‘পয়জন আইভি’, ‘ব্যাড গার্লস’, ‘বয়েজ অন দ্য সাইড’ এবং ‘এভরিওয়ান সেইজ আই লাভ ইউ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যারিমোর সফলভাবে তার শিশু তারকা ইমেজ থেকে বেরিয়ে প্রাপ্তবয়ষ্ক তারকার ইমেজ প্রাপ্ত হন। সেই সাথে তিনি ‘দ্য ওয়েডিং সিঙ্গার’ এবং এরিক বানারের বিপরীতে নাট্য চলচ্চিত্র ‘লাইক ইউ’-এর মতো রোমান্টিক কমেডিধর্মী চলচ্চিত্রেও অভিনয়শৈলী দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।