পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে একমত ন্যাটো
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৪, ২১:০৯
ইউক্রেন সংকটের পর পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। তবে তারা ঠাণ্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী মস্কোর সঙ্গে একটি মৌলিক চুক্তির সীমার মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড চালাবে বলে জানিয়েছেন ন্যাটোর প্রধান আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন। এদিকে ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে সামপ্রতিক এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো ও রাশিয়া পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘চুক্তি ভঙ্গের’ অভিযোগ করেছে। রাসমুসেন গত মঙ্গলবার বলেন, ইউক্রেনের সংঘাত বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশে দ্রুত সাড়া দেয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরিতে ন্যাটো প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বৃদ্ধির বিষয়টি অব্যাহত রাখা হবে এবং বাল্টিক সাগর থেকে কৃষ্ণসাগর এবং ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে আকাশ ও নৌপথে টহল বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে আরো মহড়া ও প্রশিক্ষণও চলবে বলেও জানান তিনি। এ পরিকল্পনার মধ্যে সদস্য দেশগুলোতে রসদ ও যন্ত্রপাতি আগেই মোতায়েন করা এবং সামরিক ক্ষমতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ রয়েছে। এতে যেকোনো হুমকির মুখে ন্যাটোর সাড়া দেয়ার সময় দ্রুততর হবে বলে জানান ন্যাটো প্রধান।
আগামী সেপ্টেম্বরে বৃটেনে ন্যাটো নেতাদের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এ পরিকল্পনা পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা খাতে একশ’ কোটি ডলার ব্যয়ের যে পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা করেছেন তাকেও স্বাগত জানিয়েছেন রাসমুসেন। এদিকে রাসমুসেন এবং ন্যাটোয় রাশিয়ার প্রতিনিধি আলেক্সান্দার গ্রুশ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘চুক্তি ভঙ্গের’ অভিযোগ করেছেন। রাসমুসেন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার অন্তর্ভুক্তিকরণের অর্থ হলো— এটা ‘১৯৯৭ সালের প্রতিষ্ঠাকালীন আইনের ভয়ানক লঙ্ঘন’। অপরদিকে, ন্যাটোয় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত গ্রুশ গত সোমবার বলেন, পোল্যান্ড এবং বাল্টিক সাগর সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশগুলোতে ন্যাটোর শক্তি বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।