৯ র্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের নির্দেশ
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৪, ২২:৪২
র্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর এ জেড এম শাকিব সিদ্দিক ও ৮ সদস্যসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহারের আদালতে র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী শাহনুর ‘হত্যা’র ঘটনায় দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রায় আধাঘণ্টা শুনানি শেষে বিচারিক হাকিম নবীনগর থানাকে মামলাটি গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বাদিপক্ষের প্রধান আইনজীবী এডভোকেট খায়রুল আনাম জানান, আদালত নবীনগর থানার ওসিকে র্যাবের বিরুদ্ধে এ মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারেরও নির্দেশ দেন আদালত। এ ঘটনায় গত রবিবার আদালতে মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই মেহেদী হাসান।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রূপক কুমার সাহা জানান, আদালতের নির্দেশের কথা শুনেছেন। আদেশের কপি হাতে পৌঁছানোর পর মামলা লিপিবদ্ধ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল জেলার নবীনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি বগডহর গ্রামের হাজী রহিস উদ্দিনের পুত্র শাহনুর আলমকে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা কোন মামলা ছাড়াই বাড়ি থেকে আটক করে। পরে তাকে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে নবীনগর থানায় সোপর্দ করা হয়। অমানুষিক নির্যাতনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারা কর্তৃপক্ষ ৪ মে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৬ মে শাহনুর মারা যান।
গতকাল শুনানিতে বাদিপক্ষের আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খোকন মামলা দায়ের করার যৌক্তিকতা বর্ণনা করেন। বাদিপক্ষের প্রধান আইনজীবী বলেন, নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের আলামত রয়েছে। তাকে পরিকল্পিত ভাবে র্যাব সদস্যরা হত্যা করেছে। আইন-শৃংখলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত তাদের এসব কাজের বিচার হওয়া উচিত। তা-না হলে দেশে আইনের শাসন থাকবে না। তখন র্যাবের পক্ষে কয়েকজন আইনজীবী দাঁড়িয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। এতে আদালতে তুমুল বিতর্ক ও হট্টগোল শুরু হয়। সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের করে দেয়া হয়। এসময় র্যাবের বেশ কিছু সদস্য সাদা পোশাকে আদালত এলাকায় অবস্থান নেন।