সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর দফতরে আগুন, দুটি তদন্ত কমিটি গঠিত
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৪, ২২:৪৩
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পূর্ব ব্লকের ৪৩৩ নম্বর কক্ষের আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। এটি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের দপ্তর। গতকাল বুধবার সকালে অফিস শুরুর আগেই ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তে দুইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কয়েক দশক আগে তৈরি কাঠের টেবিল-চেয়ার পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। কক্ষের ভেতরে থাকা কম্পিউটার, আলমিরা ও কাগজপত্রও পুড়ে গেছে। এছাড়া রুমের পর্দা-কার্পেট কাঠের দরজা-জানালাও পুড়েছে। পাশের ৪৩২ নম্বর কক্ষের পার্টিশনসহ বেশকিছু আসবাবপত্রও পুড়েছে। পুড়ে গেছে ৪৩৩ নম্বর কক্ষের ঠিক ওপরের ৫৩২ নম্বর কক্ষের জানালার পর্দা ও একটি কম্পিউটার মনিটর।
ফায়ার সার্ভিস ও সংসদ ভবনের নিরাপত্তা রক্ষীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় অল্প সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মন্তব্য করেছেন। সংসদের কর্মকর্তারা জানান, যে কক্ষটিতে আগুন লেগেছিলো সেটির সামনেই সংসদের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক মেশিন এবং প্রশিক্ষিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা থাকায় আগুন নেভানো সহজ হয়েছে। তবে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা সংসদ ভবনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। এই ঘটনা তদন্তে জাতীয় সংসদের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সুলতান মাহমুদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংসদ সচিবালয়। ওই কমিটিকে যতদ্রুত সম্ভব রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাহজাদী সুলতানা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সংসদ ভবনে আগুন লাগে বলে খবর আসে। এরপর ফায়ার ব্রিগেডের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আধাঘণ্টার চেষ্টায় ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস আশরাফুল হক জানান, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ-পূর্ব ব্লকের চতুর্থ তলায় বাণিজ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কক্ষে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই কক্ষটি পুড়ে গেলেও মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ যে কক্ষে বসেন, সেটির তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি জানান, আগুনের শিখা উপরে উঠে পঞ্চম তলার কমিটি শাখা-২-এর কক্ষের জানালার পর্দায় আগুন ধরে যায়। পর্দার আগুন থেকে কম্পিউটারের মনিটরে আগুন লাগে।
নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর পুরো সংসদ ভবনে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সকালে অফিসে আসলে তাদের দীর্ঘসময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। ধোঁয়ার কারণে অনেকেই আতঙ্কে অফিসে ঢোকেননি বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান।
এদিকে, আগুন লাগার পরপরই সংসদ ভবনে বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। অবশ্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর দক্ষিণ-পূর্ব ব্লক ছাড়া সব জায়গায় পুরায় বিদ্যুত্ সংযোগ চালু করা হয়। তবে এ ব্লকে আজ বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুত্) জিয়াউল আহসান। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে পানি ব্যবহারের কারণে বৈদ্যুতিক বোর্ডে পানি ঢুকে গেছে। পানি না শুকানো পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব ব্লকের নিচতলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া যাবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রীর দপ্তরের কর্মচারী আসলাম জানান, ওই দপ্তরটি সাধারণত অধিবেশন চলাকালীন সময় নিয়মিত খোলা হয়। বাকি সময়ে বন্ধ থাকে। অধিবেশন শুরুর আগে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে বসেন। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশন শুরুর দিনে অফিসটি খোলা হয়েছিল। মন্ত্রীও তার দপ্তরে বসেছিলেন। রাতে যথারীতি অফিস বন্ধ করা হয়।