প্রধানমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন কাল
ছয় প্রকল্পের জন্য ৪ বিলিয়ন ডলার চাইবে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০১৪, ২২:৪৪
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ছয়টি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অর্থায়নের সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। পাঁচদিনের সরকারি সফরে আগামীকাল শুক্রবার সকালে চীন রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী গতকাল বুধবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সম্পর্কে অবহিত করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বহু আগে থেকেই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০১০ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ চীন সফর করেন। এরপর কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় দু’দেশ ঘনিষ্ঠ ও সমন্বিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে। আসন্ন সফরে দ্বিপাক্ষিক ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে স্বার্থ সংরক্ষণে চীনের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। কয়েক দশকে অভাবনীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ও বিদেশি বিনিয়োগের উত্স হল চীন। আগামী ৬ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বেইজিং ও কুনমিং সফর করবেন। বেইজিং এ ৯ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন তিনি। বিনিয়োগ, কৃষি, বিদ্যুত্, যোগাযোগ, গ্যাস, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। ছয়টি প্রকল্পে চীনের ঋণ প্রাপ্তির বিষয় চূড়ান্ত হবে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন প্রকল্প, ন্যাশনাল আইসিটি ইনফ্রা নেটওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ফেজ-৩ প্রকল্প, রাজশাহী ওয়াসা পানি সোধনাগার প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন বিশিষ্ট টানেল নির্মাণ, চট্টগ্রামের কালুর ঘাটে কর্ণফুলীর নদীর ওপর দ্বিতীয় রেল-সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম রামু এবং রামু গুনডুম ডাবল গেজ রেললাইন প্রকল্প।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকশেষে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চট্টগ্রামের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দুইপক্ষের মধ্যে আলোচনা হবে।
এএইচ মাহমুদ আলী জানান, বাংলাদশ ও চীনের মধ্যকার বিরাট আকৃতির বাণিজ্য বৈষম্য কমিয়ে আনতে এবং চীনের বিনিয়োগ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন। গত অর্থ বছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ছয় দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করেছে ছয় দশমিক তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনে রপ্তানি করেছে ৪৫৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। প্রধানমন্ত্রী বেইজিং যাবার পথে ৬ ও ৭ জুন কুলমিং নগরীতে চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো ২০১৪ এর উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন এবং ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দলে ৭০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল থাকছে।