স্মৃতিতে ভাস্বর সেই কবিতার আসর

মানুষটি আড়ম্বরহীন কিন্তু তার কাজ আড়ম্বরপূর্ণ। জাঁকজমকের। আর প্রতি বছর এই আড়ম্বরপূর্ণ আর জাঁকজমকের আয়োজনের যিনি নেপথ্যের কুশীলব, তিনি মুক্তধারার বিশ্বজিত্ সাহা । মূলত তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছা ও আয়োজনে নিউ ইয়র্কের বইমেলাটি প্রতি বছর অত্যন্ত আন্তরিকতায় সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের স্বনামধন্য লেখকদের সমাগম হয়, নামী প্রকাশনাগুলো তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে হাজির হন। আর একে কেন্দ্র করে লেখক, পাঠক ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষের সম্মেলন ঘটে। বইমেলার তিন দিন নানা বিষয় নিয়ে সেমিনার হয়। বসে কবিতা পাঠের আসর । ২০১১ সালের বইমেলার কবিতা পাঠের আসরটি পরিচালনার দায়িত্ব বর্তেছিল আমার ওপর। প্রবাসের কবিরা তাদের রচিত কবিতা নিয়ে হাজির ছিলেন কবিতা পাঠের আসরে। সে বছরে প্রধান অতিথি ছিলেন সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক। তিনি তো বটেই, দর্শক সারিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, কবি শহীদ কাদরী ও কথাশিল্পী সমরেশ মজুমদার। প্রবাসের কবিদের কবিতা পাঠের আসরটিতে তারা পুরোটি সময় উপস্থিত থেকে আসরটিকে প্রাণবন্ত করে রেখেছিলেন। এ দিন বিকেলে আয়োজন করা হয় তিন কবির কবিতা পাঠের আসর। এটি একটি অনবদ্য এবং ঐতিহাসিক আয়োজন ছিল। এই আসরটিতে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁরা ছিলেন সমকালীন বাংলা কবিতার তিন বিখ্যাত কবি—শহীদ কাদরী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সৈয়দ শামসুল হক। পিনপতন নৈঃশব্দ্যের ভেতর হলভর্তি দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন তাঁরা। আর আমার কাছে মনে হয়েছিল, এটি একটি বিরল ও অনবদ্য আয়োজন। যার পুনরাবৃত্তি আর কখনো সম্ভব হয়ে উঠবে না। কারণ, ইতোমধ্যেই বাংলা কবিতার অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন। এ কারণে ২০১১-এর বইমেলাটি আমার কাছে একটি আলাদা স্মৃতি নিয়ে ভাস্বর হয়ে আছে। থাকবে আজীবন। আসছে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন পুনরায় মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বইমেলা। এটি বিগত সময়ের মতো সফল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক—এই কামনা ।