আঁধার ঘরে চাঁদের আলো
চলনবিল (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৪, ২১:৩৮
ভূমিহীন-দিনমজুর। অভাব দারিদ্র্য জীবনের নিত্যসঙ্গী। এতকিছুর মধ্যেও দমেনি তাদের বড় হবার আকাঙ্ক্ষা। তাড়াশের দুস্থ পরিবারের ৫ সন্তান এসএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন ) ও জিপিএ+ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
মো: আরমান আলী
উপজেলার দিঘীসগুনা গ্রামের দিনমজুর সাইফুল ইসলামের পুত্র আরমান নিজেও দিনমজুরি করে ছোট বেলা থেকে। জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিসহ উপজেলায় ফার্স্ট হবার পর তার উত্সাহ বেড়ে যায়। দিনে কাজ আর রাতভর পড়াশোনা করে এবছর লালুয়ামাঝিড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন প্লাস পেয়েছে আরমান। প্রধান শিক্ষক আছাদুজ্জামান জানান, দুস্থ আরমানকে নির্বাচনী পরীক্ষার পর থেকে বিনা পয়সায় পড়ানো হয়। কিন্তু এখন ভাল কলেজে পড়াশোনা করার সংগতি না থাকায় ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশ।
সুদর্শন ভট্টাচার্য
অভাবের সংসারে সংগ্রাম করে বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সুদর্শন ভট্টাচার্য। তাড়াশের ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত মধুসূদন ভট্টাচার্যের আড়াই হাজার টাকায় কোনরকম বাহ্যিক আভিজাত্য নিয়ে টিকে আছে এ ব্রাহ্মণ পরিবার। ভাল কলেজে লেখা-পড়া শিখানোর সামর্থ্য তাদের নেই। লালনগীতি ও নজরুল সংগীতে পারদর্শী সুদর্শনের ভক্তিমূলক গানেও খ্যাতি রয়েছে। প্রাইভেট না পড়েই সুদর্শন এ সাফল্য অর্জন করেছে।
সুমন সান্যাল
সিরাজগঞ্জের সলপের জমিদার সান্যাল পরিবারের অধস্তন সন্তান সুমন সান্যাল। অসুস্থ পিতা পরিতোষ সান্যাল তাড়াশ বাসস্ট্যান্ডে কর্মচারীর কাজ করে প্রতিদিন যা আয় করে তা দিয়েই পরিবারের আহার জোটে। সুমন এবছর তাড়াশ ইসলামিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে গোল্ডেন প্লাস পেয়েছে। তবে অর্থাভাবে সুমনের লেখা-পড়া কতদূর অগ্রসর হবে তা সে জানে না।
জিয়াসমিন খাতুন
ফুটপাতের চা বিক্রেতার কন্যা জিয়াসমিন মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েও ভাল কলেজে পড়াশোনা করার ভরসা করতে পারছে না। জিয়াসমিনের পিতা জয়নালের জন্মের পর উধাও হয়ে যান দাদা রহমান আকন্দ। তারপর আজ পর্যন্ত ফিরে আসেন নি। পিতৃহারা জয়নাল পথে পথে ঘুরে মানুষ। ভাল খাবার এ পরিবারে কখনও জোটে না। জয়নালের কন্যা জিয়াসমিন তাড়াশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
হাফিজুর রহমান
পড়াশোনা ও দিনমজুরি একসাথে চালিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন প্লাস পাবার পরও ভাল কোন কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেননি চলনবিলের নিভৃত গ্রাম ডেফলচড়ার হাফিজুর রহমান। এসএসসি পরীক্ষার পর আবার শুরু করে দিন মজুরির কাজ। ধান কাটা অবস্থায় গোল্ডেন প্লাসে পাস করার খবর পায়। আনন্দের চেয়ে হতাশায় ভুগছে হাফিজুর। হাফিজুরের স্বপ্ন সামরিক কর্মকর্তা হয়ে দেশ সেবা। লেখাপড়ার ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তায় হাফিজুর মুষড়ে পড়েছে।