‘জোগো বনিতোয়’ অনাস্থা নেইমারের!

ছন্দময় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ফুটবলের জন্য ব্রাজিলের পরিচিতি বিশ্বময়। আর সেই ব্রাজিলেই এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপ। তবে লক্ষ লক্ষ ব্রাজিলিয়ানকে সুন্দর ফুটবলের মোহনীয় ছন্দে নাচানো নয় বরং তাদের জয় উপহার দেয়ার দিকেই দৃষ্টি নেইমারের। অর্থাত্ পূর্বপুরুষদের ধারা মেনে ‘জোগো বনিতোয়’ বা ছন্দময় ফুটবল নয়, প্রয়োজনে অসুন্দর ফুটবল খেলেও জয় ছিনিয়ে নিতে আপত্তি নেই এই বার্সেলোনা তারকার। কারণ, ঘরের মাঠে লক্ষ-কোটি স্বদেশীর সামনে বিশ্বকাপ জেতার এই সুযোগ জীবনে আর পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছেন নেইমার। মঙ্গলবার পানামার বিপক্ষে প্রথম অনুশীলন ম্যাচে ৪-০ গোলে জয়ী হয়ে প্রস্তুতি পর্বটা বেশ ভালই সম্পন্ন করেছে সেলেসাওরা। সেই ম্যাচে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেয়া ছাড়াও বাকি গোলগুলোতেও সহযোগিতা করেছেন নেইমার। বিশেষ করে সতীর্থ হাল্কের গোলের পেছনে নেইমারের দুর্দান্ত ব্যাকহিলটি মুগ্ধ করেছে সবাইকেই। তবে প্রতি ম্যাচেই এমন সুন্দর ফুটবল উপহার দেয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন নেইমার নিজেই। দলের প্রয়োজনে কিংবা কৌশলগত কারণে ব্রাজিল তাদের খেলার স্টাইলও বদলাতে পারে বলেই ইঙ্গিত এই তারকার। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এর ওয়েবসাইটে তিনি বলেছেন, ‘ফুটবলের সৌন্দর্যের বিষয়টি আমাদের কাছে শেষ বিবেচ্য বিষয়, আসল বিষয়টি হচ্ছে জয় পাওয়া। এখানে আমাদের সামনে জয়ের বিকল্প নেই। আমাদের দলের সবার মানসিকতাও সবসময়ই এক থাকে, প্রতিপক্ষ যেই থাকুক না কেন জয়ের লক্ষ্যেই আমরা মাঠে নামি। আমরা সবসময়ই গোল করতে চাই, সেটা করতে পারলে আমরা ভাল খেলার চেষ্টা করি।’ ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের মূল কারিগর কোচ লুইস ফিলিপ স্কলারির অধীনেই এবারও ব্রাজিল মাঠে নামবে। দলে নেইমার ছাড়াও আছেন ফ্রেড-হাল্ক-দানিয়েল আলভেজের মতো খেলোয়াড়। আর বরাবরের মতোই দুর্দান্ত আক্রমণভাগের পাশাপাশি রক্ষণেও আছেন দারুণ কিছু খেলোয়াড়। অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার দুই পাশে তাকে রক্ষণ কাজে সহায়তা করবেন দান্তে এবং ডেভিড লুইজের মতো তারকা ডিফেন্ডার। তাই ১৯৫০ সালের পরে দ্বিতীয়বারের মত স্বাগতিক হবার দায়িত্ব পেয়ে ঘরের মাঠে এবার অন্যতম ফেবারিট দল হিসেবেই লড়াইয়ে নামবে স্কলারি বাহিনী। আজ সাও পাওলোতে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। ১২ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। গ্রুপ-এ তে অপর দুটি হলো ক্যামেরুন ও মেক্সিকো। বাসস/ এএফপি।