বিশ্বকাপের প্রত্যেক খেলোয়াডের ড্রাগ টেস্ট হবে
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৪, ২২:৩৮
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে অবশ্যই ড্রাগ টেস্টের মুখোমুখি হতে হবে। শুধু তাই নয় প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বহন করতে হবে অবশ্যই ‘বায়োলজিক্যাল পাসপোর্ট’। দুটি ব্যাপারই এই প্রথম ঘটতে যাচ্ছে বিশ্বকাপে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবারের বিশ্বকাপের জন্য এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করেছে।
ইতিমধ্যেই এই ধরনের পাসপোর্ট ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী করেছে সাইক্লিং এবং অ্যাথলেটিক্সের সর্বোচ্চ সংস্থা আইএএএফ। এবার ফুটবলেও সেই নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এই ধরনের পাসপোর্টে একজন খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ারের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষার বিস্তারিত সব তথ্য দেয়া থাকে। গত মার্চ থেকেই ফিফার নিয়োগকৃত ডাক্তার ও নার্সরা এ ব্যাপারে সহযোগিতা করে আসছে। আন্তর্জাতিক ও দলীয় অনুশীলন ক্যাম্পে তারা খেলোয়াড়দের রক্ত ও মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠাচ্ছে। গত সপ্তাহে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের অনুশীলন ক্যাম্পেও এই ধরনের পরীক্ষা করা হয় বলে গণমাধ্যমে খবর বেরোয়।
গত বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট কনফেডারেশন কাপের সময় অনেক খেলোয়াড়ের সাথে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার, ইতালিয়ান অধিনায়ক জিয়ানলুইজি বুফন এবং স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। গত ১৮ মাসে আন্তর্জাতিক সব ক্লাব প্রতিযোগিতায় চেলসি, বার্সেলোনা, সান্তোস এবং মনটেরির খেলোয়াড়দের ওপরও পরীক্ষা চালানো হয়।
খেলোয়াড়রা আশা করছেন ১২ জুন থেকে বিশ্বকাপ শুরু হবার আগেই যেন তাদের কাঁধের ওপর থেকে সব ধরনের আশঙ্কা সরে যায়। সমপ্রতি এক সাক্ষাত্কারে ফিফার প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা জিরি ভোরাক বলেছেন, আমরা যেকোন সময়, যেকোন জায়গায় যেকোন খেলোয়াড়ের উপর এই পরীক্ষা চালাবো। এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক কোন ফলাফল পরীক্ষায় পাওয়া যায়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সবকিছুই স্বাভাবিক আছে বলে তিনি সকলকে আশ্বস্ত করেছেন।
ফিফা এবারের বিশ্বকাপে সব খেলোয়াড়ের জন্য ‘বায়োলজিক্যাল পাসপোর্ট’ বহন বাধ্যতামূলক করেছে যেখানে একজন খেলোয়াড়ের কমপক্ষে দুটি পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের পরে তার ফলাফল দেয়া থাকবে। যদিও অনেক খেলোয়াড়ই চারটি পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য এখানে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ধরনের উদ্যোগকে এখন পর্যন্ত প্রায় সব দলই স্বাগত জানিয়েছেন। ভোরাকের মতে, খেলোয়াড়রা বিষয়টির ইতিবাচক দিক সম্পর্কে বুঝতে পেরেছে এবং নিজেদের পেশাদার জীবনের অংশ হিসাবে নমুনা দিয়ে তাদের সহযোগিতা করেছেন। তবে ব্রাজিলে কোন আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার না থাকায় সংগৃহীত নমুনা নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে ভোরাক স্বীকার করেছেন। সে কারণেই এই নমুনাগুলো ফিফা সুইজারল্যান্ডের লুসানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই খাতে ফিফাকে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার গুনতে হচ্ছে।-বাসস/এএফপি