রাজস্ব আদায় ও এডিপি বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ

আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ বাজেটে বেশ কয়েকটি বড় বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করা এবং বাজেট বাস্তবায়ন করা। তবে সম্ভাব্য খাতগুলো থেকে সঠিকভাবে কর আদায় করতে পারলে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। তবে এ জন্য কর প্রশাসনকে দক্ষ ও আধুনিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যা বাজেটে দেখা যায়নি। এসব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য যে বাজেট করা হয়েছে তা কিছুটা বড় হলেও তাতে আপত্তি নেই। তবে আয় ব্যয়ে সামঞ্জস্য বজায় থাকতে হবে। বাজেটে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে। যেখানে চলতি অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রাতেই বড় রকমের ঘাটতি হয়েছে সেখানে আগামী অর্থবছরে এতো বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা কঠিন হবে। তাছাড়া যদি অর্থনীতি প্রসারিত না হয় তবে এতো আয় করা সম্ভব হবে না। তাই বাজেটে আয়ের দিকটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ যে ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে এটিও সময়মতো বাস্তবায়ন করা কঠিন কাজ। কারণ এতো উন্নয়ন ব্যয় দক্ষভাবে বাস্তবায়ন করা আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন। তবে এজন্য বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়াতে কাজ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এম কে মুজেরি বলেছেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ মোটামুটিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ। রাজস্ব আদায়, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি এবং বাজেট বাস্তবায়ন করাই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, বাজেটে যে রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে তা কিছুটা উচ্চাভিলাষী। কারণ এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ২৫ হাজার কোটি টাকার বাড়তি কর আদায় করতে হবে। যা এনবিআরের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে এ রাজস্ব আদায় করা অসম্ভব নয়। তিনি বলেন, যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হয় এবং সবগুলো সম্ভাব্য খাত থেকে কর আদায় করা সম্ভব হয় তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। বিনিয়োগের স্থবিরতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে বাজেটের অনেক লক্ষ্যই ভেস্তে যাবে। এম কে মুজেরি আরও বলেন, আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন করে যেসব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অনেকেরই বাস্তবায়নের ক্ষমতা দুর্বল। তাই তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে না পারলে বাজেটের সুফল পাওয়া যাবে না। বাজেট প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, বাজেটে অবকাঠামো ও বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে বেসরকারি বিনিয়োগ উত্সাহিত হবে। তবে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া এডিপিতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা মাসওয়ারি দিলে বাস্তবায়ন কিছুটা সহজ হতে পারে। এডিপি বাস্তবায়নে তদারকির ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি আরও বরেন, রাজস্ব আদায়ে প্রত্যক্ষ করকে এবার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এটা ইতিবাচক। তবে করের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে, যেন সক্ষম সবাই করের আওতায় আসে।