কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যথারীতি বহাল
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৪, ২৩:১৬
প্রস্তাবিত বাজেটে বহুল আলোচিত অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) নির্দিষ্ট হারে করের বিনিময়ে আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ যথারীতি বহাল থাকছে। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে সর্বনিম্ন ৭শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রযোজ্য হারে কর ও এর উপর জরিমানা (করের উপর ১০ শতাংশ) দিয়ে যে কোন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগও বহাল থাকছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় এই সুবিধা বাতিলের কথা বলেন নি।
এ বিষয়ে গতকাল রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, যেহেতু অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করা হয়নি তাই আগামী অর্থবছরেও তা বহাল থাকবে। তবে অর্থের উত্স সম্পর্কে এনবিআর প্রশ্ন না করলেও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্য কোন সংস্থা এ অর্থের উত্স সম্পর্কে প্রশ্ন করতে বাধা নেই। তিনি জানান, এই অনিশ্চয়তার কারণে বিগত বছরগুলোতে প্রত্যাশার তুলনায় খুব সামান্য পরিমাণ কালো টাকাই বিনিয়োগে এসেছে।
এনবিআর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ২০৫ জন ব্যক্তি ২৩৪ কোটি অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এতে সরকার ১৮ কোটি টাকা কর পেয়েছে। আর বিশেষ সুযোগে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ২ হাজার ৫শ’ জন এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। এতে সরকার ২৬ কোটি টাকা কর পেয়েছে।
এছাড়া বিগত দুই অর্থ বছরে কেবলমাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও এ খাতেও প্রত্যাশিত অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূল স্রোতে আসেনি। ২০১১-১২ অর্থবছরে মাত্র ৮২ ব্যক্তি এই সুযোগ নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। তখন এই খাতে ৩৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে এনবিআর ৩৮ কোটি টাকা কর আদায় করেছে। আর বিগত ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই পন্থায় অর্থ বৈধ করার চিত্র ছিল আরো হতাশাজনক। আলোচ্য সময়ে ২৫ ব্যক্তি এই খাতে ৩৮ কোটি টাকা বৈধ করেছেন।