বরাদ্দ বাড়লেও শিক্ষাখাতে নতুন সুসংবাদ নেই

বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষা খাতে নতুন কোন সুসংবাদ নেই। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কমিশনেরও ঘোষণা নেই। তবে টাকার অঙ্কে আগের চেয়ে বরাদ্দ বেড়েছে। বাজেটে এবারও সামগ্রিক শিক্ষা খাতের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে এবার মোট ৩২ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ হার মোট বাজেটের ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিগত সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে শিক্ষা খাতে এটাই সর্বোচ্চ বরাদ্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, সরকারের এ মেয়াদেই জাতীয় শিক্ষানীতির অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সবস্তরে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকেও আধুনিক করা হবে। কারিগরি শিক্ষার জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা, প্রত্যেক উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রতি জেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অব্যাহত থাকবে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী বারবার ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি বাজেটে। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও এ ক্ষেত্রে বাজেট বাড়েনি। গত বছর ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের এক লাখ চার হাজার শিক্ষক জাতীয়করণের আওতায় এসেছেন। বাজেটে তাঁদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়নি। তবে বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী শিক্ষা খাতে বিভিন্ন ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত ৫৩: ৪৭। এটা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত মোট ৪৩ লাখ ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী সৃজনশীল প্রতিভা খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ’ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন শুরু করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ও দক্ষ জনসম্পদ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে গত মেয়াদের গোড়াতেই আমরা প্রণয়ন করেছি ‘শিক্ষানীতি ২০১০’। এছাড়াও আমরা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১২’ এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিভার স্বীকৃতি প্রদানে ‘সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ নীতিমালা- ২০১২’ প্রণয়ন করেছি। আমাদের প্রচেষ্টায় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শতভাগ শিক্ষার্থী প্রতিবছর বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। অব্যাহত আছে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম। অভিন্ন মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে পাবলিক পরীক্ষা প্রবর্তন করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় সরকারিকরণ এবং একইসঙ্গে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষককে আত্মীকরণ করা হয়েছে।