উত্তরাঞ্চলে লোডশেডিং ও প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস

তপ্ত হাওয়া, লোডশেডিং, প্রচণ্ড গরমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুত্ সরবরাহ, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওঠানামা করায় এবং কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ ত্রিমুখী সমস্যায় সংকটে পড়ে হাঁসফাঁস করছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে এলাকা ভেদে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বইছে ৩৩ ডিগ্রী থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবার এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। প্রচণ্ড গরমে প্রায় প্রতি ঘরে দেখা দিয়েছে জ্বর. সর্দি, কাশিসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই। অনেকের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার মত ঘটনা ঘটছে। এ অঞ্চলের মানুষ একটু শীতল হাওয়ার জন্য ছটফট করছেন। অনেকেই রাস্তার পাশে বড় বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে শরীরকে শীতল করার চেষ্টা করছেন। অপরদিকে প্রচণ্ড গরম এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বোরো চাষিরা রয়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। আর ক’দিন পরেই সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। প্রকৃতি রুক্ষ হওয়ায় ধানে চিটাসহ বিভিন্ন রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এদিকে রংপুর ও রাজশাহী পিডিবি অফিস সূত্রে জানা গেছে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৭৮০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট। এর মধ্যে রংপুর জোনের চাহিদা ২৮০ থেকে ৩৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ ঠিকমত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনে বেশ ক’বার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। এছাড়া পল্ল¬ী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোর চাহিদা গড়ে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। সেখানে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে অনেক কম। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুত্ কম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষি, শিল্প-কারখানাসহ প্রতিটি সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া।