প্রতিবন্ধীদের অধিকার বাস্তবায়নে বাজেটে চাই পর্যাপ্ত বরাদ্দ
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৪, ২০:৫৯
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে মানবাধিকার কমিশন সোচ্চার থাকবে বলে অঙ্গীকার ঘোষণা করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার বাস্তবায়নে জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার আগারগাঁও এলজিইডি ভবনের আরডিইসি মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন,২০১৩’র আলোকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার, সুরক্ষা ও চ্যালেঞ্জসমূহের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বিষয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানবাধিকার কমিশনের সদস্য এডভোকেট ফওজিয়া করিম ফিরোজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রতিবন্ধী বিষয়ক উন্নয়নকর্মী মনসুর আহম্মেদ চৌধুরী, এ্যাকশন অন ডিসএবিলিটি এন্ড ডেভেলপমেন্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোশারফ হোসেন, ন্যাশনাল ফোরাম অফ অর্গানাইজেশনস ওয়ার্কিং উইথ ডিসএবিলিটির পরিচালক ডা. নাফিসুর রহমান। সেমিনারে যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর ডিসএবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এইচ.এম নোমান খান ও সেন্টার ফর সার্ভিসেস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিসএবিলিটির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার জহিরুল আলম।
অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। বিভিন্ন কারণে মানুষ প্রতিবন্ধিত্ব বরণ করতে পারে। এই প্রতিবন্ধীর দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে। কিন্তু অনেক সময় সেই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র ব্যর্থ। তিনি র্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রের কারণে আজ লিমন পঙ্গু। কিন্তু আমরা সেসব দোষীকে কখনো শাস্তি পেতে দেখি না। রাষ্ট্র যখন দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হয়,তখন সেই দায়িত্ব এসে বর্তায় সমাজের জনগণের উপর। সেই জায়গায় আমাদের সোচ্চার হতে হবে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মানবাধিকার কমিশনে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে, এটা অত্যন্ত সুখবর। প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি এখন অগ্রাধিকার পাচ্ছে তবে এর বাস্তবায়ন খুব একটা চোখে পড়ে না। এখনো লঞ্চঘাটে, এয়ারপোর্টে, বাস, রেল স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের জন্যে র্যাম্প ও টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, হত্যাসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে; কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবন্ধী ন্যায়বিচার পায়নি। সেমিনারে ২১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে—প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইনকে সমাজে পরিচিত করে তুলতে হবে। ধর্ষণ, হত্যা, সম্পদের অধিকার লংঘনে সরকারকে সুবিচার প্রতিষ্ঠায় তাত্ক্ষণিক উদ্যোগ নিতে হবে। চাকরির কোটা পূরণে উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে অংশগ্রহণে বাধাগুলো দূর করতে হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যে ব্রেইল বই বছরের শুরুতে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।