চলতি পথে তিন অভিজ্ঞতা

এক. দেশি মাছ :ক’দিন আগে মাছের বাজারে যাই । এক মত্স্যজীবী শিং মাছ বিক্রির জন্য চালুনে ধরে আছে। পনেরো-বিশটি হবে। সব মাছের পেটে ডিম। আহ্ হা আর ক’দিন গেলেই ডিম ফুটে কয়েক হাজার শিং মাছ বেরুতো। এমনিতে দেশি মাছ বিলুপ্তির পথে, তার ওপর ডিমওয়ালা মাছ ধরা? মত্স্যজীবীকে বলতে তিনি উত্তর দিলেন— কিন্তু কী করমো? পেটের দায়। ডিমওয়ালা কী আর এমনি কী? উনিও আফসোস করে শেষে বললেন—আসলে এ মাছ ধরা ঠিক হয়নি। দেশি মাছ আমাদের নিজস্ব সম্পদ। এরা আমিষে ও স্বাদে ভরা। এদের রক্ষা করা জরুরি। এজন্য মত্স্যজীবীদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। কর্মশালা, সভা, সেমিনার আয়োজন করা দরকার। মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ডিমওয়ালা মাছ না ধরতে এবং ধরার ফলে সমস্যা কী হয় তা তুলে ধরতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ দরকার। প্রয়োজনে মত্স্যজীবীদের (কারো কারো) জন্য বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ডিমওয়ালা মাছ ধরা বন্ধে প্রচারণা চালাতে হবে। দুই. বই পড়া : ভাগনে এসেছে বেড়াতে। নবম শ্রেণিতে পড়ে। আমার প্রকাশিত বইটি তাকে উপহার দেই। হাতে নিয়ে বললো—আমাদের স্কুলে বেশ কয়েকটি বই (গল্পের) পড়িয়েছে। মূল্যায়নও হয়েছে। পুরস্কার হিসেবে কয়েকটি বই পেয়েছি। খুব ভালো লাগলো ওর কথা শুনে। কেননা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প-উপন্যাসের বই পড়েছে। জিজ্ঞেস করলাম— নিজ উদ্যোগে পড়েছ? উত্তরে সে বললো—কী যেন একটা কর্মসূচি স্কুলে চালু হয়েছে। তাতে কয়েকজন সদস্য হয়েছে। কিন্তু হেড আপা আমাদের জোর করেই পড়িয়ে নিয়েছেন। বললাম— বই পড়ে কেমন লাগলো? সে উত্ফুল্ল হয়ে বললো—খুব ভালো। তাছাড়া পুরস্কারও পেয়েছি। চোখে ভেসে উঠলো আমাদের সন্তানকে ওর মায়ের ভাত, দুধ জাতীয় খাবার প্রথম প্রথম জোর করেই খাওয়ানোর দৃশ্য। প্রথমে সে একটু কান্নার মতো করে। কিন্তু ওর মা আদরীয় ধমকে জোর করেই মুখে তুলে দিয়ে খাওয়ায়। তারপর সে খেতে থাকে। তাই তো স্বাস্থ্যটি অটুট আছে সন্তানের। কিন্তু ওর পছন্দ চকলেট, চানাচুর, চুইংগাম, পাপড় জাতীয় মুখরোচক খাবার। যার অতিরিক্ততা রুচি প্রতিবন্ধক এবং স্বাস্থ্য হানিকর। তেমনি কিশোর বয়সে অনেক সময় ধরে মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় সময় ক্ষেপণ ভালো লাগে। তাই হেড স্যার,আপা, অভিভাবকবৃন্দ একটু জোর করে হলেও ভালো মানের বই পড়ান পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি। আমাদের সন্তানের মা যেমন ওকে খাওয়ার সময় আদরীয় শাসনের পাশাপাশি গল্প, ছড়া, গান শোনায় আপনারাও গল্প, কাহিনি, ছড়া শুনিয়ে ওদের বই পড়ার অভ্যাস করে তুলুন। ওদের মানসিক বিকাশ ঘটবে। তিন. ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম : ফর্সা ও সুন্দর হওয়ার বাসনা সবারই হয়তো থাকে। আমার এক আত্মীয়া তরুণী। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি সে পরিপাটি হয়ে থাকতে পছন্দ করে। আয়নায় প্রায় সময়ই তার মুখের চেহারা দেখতে থাকে। এমনিতে দেখতে সে সুন্দর। হয়তো আরো সুন্দর হওয়ার বাসনাটা চেপে বসে। তাই তো প্রায় সময়ে দেখা যেতো কী কী সব পাতা, মূল কিংবা অন্যান্য কিছু বেঁটে সেচে মুখে মাখতো। হঠাত্ দেখি সে মুখ গামছা দিয়ে ঢেকে বেড়াচ্ছে। ভাবলাম, কিছু হয়তো মুখে মেখেছে এবং রৌদ্র থেকে বাঁচানোর জন্য মুখখানা ঢেকেছে। কৌতূহল বেড়ে গেলো। সামনে দাঁড়ালাম। সে আঁেক উঠলো লজ্জায়। ইতস্তত বোধ করছে। আগ বাড়িয়ে কথা বললাম। কথা বলতে বলতে সহজ হলে ঢেকে রাখার চেষ্টার গামছাটা সরিয়ে দিলো। চক্ষু চড়কগাছ আমার! একি হাল মুখখানার? জিজ্ঞাসা করতেই কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল— ইদানীং ত্বক ফর্সাকারী কিছু ক্রিম বেরিয়েছে হারবাল নাম দিয়ে। ওর দু’টি ব্যবহার করেছি। কয়েকদিন ত্বক ফর্সা দ্রুত হচ্ছিল। ক’দিন পরেই এই অবস্থা? ব্রণ, কালোদাগে মুখখানা ভরে গেছে। এলার্জির মতো চুলকায়ও মাঝে মাঝে। শুনলাম ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছে। আজ ত্বক ফর্সাকারী স্নো বা ক্রিমের রমরমা ব্যবসা চলছে। সেগুলো আদৌ ত্বক ফর্সা করে প্রাকৃতিক উপায়ে— না, ত্বকের বারোটা বাজায় চামড়া পুড়িয়ে? ব্যবহারকারীরা ভেবে দেখুন এবং সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। গাইবান্ধা