স্কোলারির চোখে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা ফাইনাল
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৪, ২১:৫৭
ব্রাজিল কোচ লুই ফিলিপে স্কোলারির মতে স্বাগতিকরা যদি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাতে পারে তবে আর্জেন্টিনাই হবে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ।
কোচ স্কোলারি গত বৃহস্পতিবার রাতে রিও ডি জেনিরোতে জানান যে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে টুর্নামেন্টের খেলাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ দুইটিই ১৩ জুলাইয়ের ফাইনালে মুখোমুখি হবে। তিনি বলেন,‘আমাদের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় ব্রাজিল একদিকে এবং অপরদিকে থাকবে আর্জেন্টিনা।
রিও ডি জেনিরোতে দলের অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে স্কোলারি গণমাধ্যমের কাছে এ মত তুলে ধরলেও কিসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটিতে উপনীত হয়েছেন তা বলেননি। তবে তিনি বলেন, তার আশা এ ভবিষ্যত্বাণী সঠিক হবে। কারণ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দুইটি দলের দক্ষিণ আমেরিকায় শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হওয়াটা হবে অসাধারণ ঘটনা।
স্কোলারি বলেন,‘আশা করি সেটাই হবে ফাইনাল। এটা হবে অসাধারণ সব খেলোয়াড়কে নিয়ে, দারুণ সব গুণপনাসহ দক্ষিণ আমেরিকান ফাইনাল।’
চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল দুইটি অবশ্য সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখি হতে পারছে না। নিজেদের গ্রুপে দুইটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়, সেক্ষেত্রেই কেবল তারা মারাকানা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে পারবে। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিল কোচ বলেন,‘আমি দেখতে চাই না আর্জেন্টিনা প্রথম কিংবা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়ুক। আমি চাই আর্জেন্টিনা তাদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলুক।’
সেলেচাওদের সাথে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতা এই কোচ একই সাথে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার প্রধান দুশ্চিন্তা অবশ্য ব্রাজিল দলকে নিয়ে। তাই তিনি বলেন,‘আমাকে ব্রাজিলকে ফাইনালে তুলতে হবে। এরপর যে দলই সেখানে আসুক না কেন, সত্যি এতে কিছু যায় আসে না। আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আমার দলটি ফাইনালে যায়।’
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। তাতে আর্জেন্টিনার একমাত্র জয়টি ছিল ইটালিতে অনুষ্ঠিত ১৯৯০ এর বিশ্বকাপের শেষ ষোলর খেলায়। সেই খেলাটিতে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোগান থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়া ৮১ মিনিটে ১-০ ব্যবধানের জয়টি নিশ্চিত করেন। ব্রাজিলের জয় দুইটি। প্রথমটিতে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে ২-১ গোলে জয়ী হয় ব্রাজিল। এরপর ১৯৮২’র বিশ্বকাপে একই রাউন্ডের খেলায় ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারায় ব্রাজিল দল। ১৯৭৮ সালে দুই দলের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলাটি ছিল গোলশূন্য। সেবার আর্জেন্টিনা নিজেদের মাটিতে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রথম বিশ্বকাপটির দেখা পেয়েছিল।