চূড়ান্ত পুরস্কার চান মেসি

ঠিক যেন গত বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি—অসাধারণ খেলছেন কিন্তু গোল পাচ্ছেন না লিওনেল মেসি। অন্তত বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতে প্রথম অনুশীলন ম্যাচে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর বিপক্ষে সেই দৃশ্যই দেখা গেল দফায় দফায়। এ নিয়ে অবশ্য স্বয়ং মেসি খুব একটা চিন্তিত নন। তিনি আসলে খুবই খুশি এ কারণে যে তার দল বেশ ভালো অবস্থায় আছে। আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগের যে ভারসাম্য আশা করছিলেন, তা দেখতে পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফলে এখন চূড়ান্ত পুরস্কারটা, মানে বিশ্বকাপটা জিততে চান চার বারের বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে মেসির পাশে মূলত যাদের থাকার কথা সেই সার্জিও আগুয়েরো বা গঞ্জালো হিগুয়েইনকে প্রথম অনুশীলন ম্যাচে মাঠেই নামাননি কোচ সাবেলা। এমনকি ডিফেন্সেও সেরা খেলোয়াড় পাবলো জাবালেতাকে বিশ্রামে রেখেছিলেন। অনেকটাই বিকল্প বেঞ্চ যাচাই করার এই ম্যাচে সতীর্থদের দেখে খুশি মেসি, ‘দলটাকে দেখে খুব ভালো লাগছে। সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করতে খুব উত্সাহী। আমরা অসাধারণ একটা দল নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছি। চূড়ান্ত পুরস্কারটা ওখান থেকে নিয়ে ফিরতে চাই।’ যদিও মেসি জানেন, চাইলেও ব্যাপারটা পাওয়া যায় না। নিজেই যেন নিজেকে আগে থেকে প্রবোধ দিয়ে রাখছেন, ‘এটা তো বিশ্বকাপ, যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। বিশ্বকাপ আর পৃথিবীর অন্য যে কোনো টুর্নামেন্টের আবহতেই অনেক পার্থক্য আছে। চ্যাম্পিয়নস লীগও বড় ব্যাপার। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো এরকম নিরেট আসরের কোনো তুলনাই নেই।’ এই উত্তেজনা, বিশালত্বকে জয় করতে পারলে তবেই জুটবে সেই কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার। মেসি সে ব্যাপারে আশাবাদী। এই আশাবাদ যেমন দলকে নিয়ে, তেমনই নিজের ছন্দে ফেরা নিয়েও। গত মৌসুমটা ঠিক মেসিসুলভ কাটেনি তার। ইনজুরি আর অধারাবাহিকতা একটু অচেনা করে রেখেছিল তাকে। মেসি বলছেন, সেই অবস্থাটা কেটে গেছে। কেন কেটে গেছে, সে ব্যাখ্যাও দিলেন, ‘অন্যান্য ব্যাপার বাদ দিলেও দু’মাসের যে বিরতি পেয়েছি, তাতে শরীর অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে। এছাড়া আমি স্পেন থেকে ফিরে বাড়ি গিয়েছিলাম। ওখানে বন্ধুদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাতে পারাটা খুব ভালো একটা ব্যাপার ছিল। এরপর আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেনিংয়ে যোগ দেয়াটাও একটা আলাদা আনন্দের ব্যাপার। সবমিলিয়ে নিজেকে ফিরে পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে।’